মানবপাচার-অনলাইন স্ক্যামে জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 4
মানবপাচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র ও প্রযুক্তিনির্ভর স্ক্যাম নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম: এন্ডিং হিউম্যান ট্রাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিনালিটি’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের ধরন দিন দিন আরও জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। অপরাধী চক্রগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া অনলাইন নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে চাকরিপ্রত্যাশী ও তরুণদের টার্গেট করছে।
তিনি জানান, আকর্ষণীয় চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে বিদেশে নিয়ে গিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে রাখা হচ্ছে। সেখানে নির্যাতন, ভয়ভীতি এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত, বেসরকারি সংস্থা এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সরকার ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন (ইউএনটিওসি) ও সংশ্লিষ্ট প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণীত এ আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে সম্পৃক্ত করার মতো কর্মকাণ্ডকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, বিচার নিশ্চিতকরণ এবং অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম)’ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া মানবপাচার-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে তরুণ, নারী ও বিদেশগামী কর্মপ্রত্যাশীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভুয়া নিয়োগ ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সংলাপে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা, আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডেসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
































