ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন

গুজব-অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / 9

বাংলাদেশ সরকার

সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় আবারও তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাইবার মাধ্যমে ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’-সংক্রান্ত অপরাধের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি শাস্তিও আরও কঠোর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এছাড়া আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত বিলটি আগামী সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সাইবার পরিসরে গুজব বা অপতথ্য প্রকাশ কিংবা প্রচারকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘গুজব’ বলতে এমন অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবি বোঝানো হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে কিংবা এমন পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি করে। অন্যদিকে ‘অপতথ্য’ বলতে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করা হয়।

সংশোধনীতে আইনের ২৫ নম্বর ধারায় মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন-সংক্রান্ত বিধানও সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে কাউকে মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে।

এছাড়া নারী কিংবা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের কনটেন্ট প্রচার করা হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মানহানির ব্যাখ্যায় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার উল্লেখও রাখা হয়েছে।

আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। সংশোধিত খসড়া অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাও দায়িত্ব পালন করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এ দায়িত্বে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) যুক্ত হতে পারে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও, অডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ এবং ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ঠেকাতেই আইনকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি খাতের একাংশ এ সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র সংজ্ঞা পর্যাপ্তভাবে স্পষ্ট না হলে আইনের অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তারা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনটি চূড়ান্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে সংশোধনী নিয়ে সরকারের ভেতরেও ভিন্নমত রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এক পক্ষ কঠোর আইন প্রণয়নের পক্ষে থাকলেও অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, অপপ্রয়োগের অভিযোগ বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। পরে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হয়। সেই আইন কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন

গুজব-অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় আবারও তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাইবার মাধ্যমে ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’-সংক্রান্ত অপরাধের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি শাস্তিও আরও কঠোর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এছাড়া আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত বিলটি আগামী সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সাইবার পরিসরে গুজব বা অপতথ্য প্রকাশ কিংবা প্রচারকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘গুজব’ বলতে এমন অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবি বোঝানো হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে কিংবা এমন পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি করে। অন্যদিকে ‘অপতথ্য’ বলতে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করা হয়।

সংশোধনীতে আইনের ২৫ নম্বর ধারায় মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন-সংক্রান্ত বিধানও সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, অডিও, ভিডিও, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে কাউকে মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে।

এছাড়া নারী কিংবা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের কনটেন্ট প্রচার করা হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মানহানির ব্যাখ্যায় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার উল্লেখও রাখা হয়েছে।

আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। সংশোধিত খসড়া অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাও দায়িত্ব পালন করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, এ দায়িত্বে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) যুক্ত হতে পারে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও, অডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ এবং ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ঠেকাতেই আইনকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি খাতের একাংশ এ সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র সংজ্ঞা পর্যাপ্তভাবে স্পষ্ট না হলে আইনের অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তারা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনটি চূড়ান্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে সংশোধনী নিয়ে সরকারের ভেতরেও ভিন্নমত রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এক পক্ষ কঠোর আইন প্রণয়নের পক্ষে থাকলেও অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, অপপ্রয়োগের অভিযোগ বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। পরে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হয়। সেই আইন কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।