রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, দায়িত্ব নিচ্ছেন স্পিকার
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / 67
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আজ বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।
কেন এই পদত্যাগ?
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ থাকার কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁর থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছিলা। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি পদ ছাড়লেন। গত বৃহস্পতিবারই তিনি বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ব্যাংকক থেকে দ্রুত ফিরলেন স্পিকার
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই থাইল্যান্ডের ব্যাংককে গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী রোববার তাঁর দেশে ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আজ দুপুরে তিনি ঢাকায় ফেরেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও তখন তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং জানান যে দাপ্তরিকভাবে পদত্যাগপত্র পেলে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখন কী হবে? সাংবিধানিক বিধান
সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?
সংসদে বর্তমানে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখায় দলটির মনোনীত প্রার্থীরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে বঙ্গভবনে পাঠানো হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে দলটির শীর্ষপর্যায়ে নিবিড় আলোচনা শুরু হয়েছে। আজকের বিকেল পাঁচটায় স্পিকারের সংবাদ সম্মেলনের পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




































