আত্মসমর্পণের আগেই গ্রেপ্তার হতে পারেন শেখ হাসিনা: আইনমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 24
বাংলাদেশে ফিরতে চাইলে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজন মনে করলে আত্মসমর্পণের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মসমর্পণের অধিকার তার রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, একজন ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেও তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজন মনে করলে আত্মসমর্পণের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা রাখে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির (সেলপ) মধ্যে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার এক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার সম্ভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে তিনি কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আইনগত এখতিয়ারের মধ্যে প্রবেশ করলেই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে এখনো সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনও সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বসবে। তাই আপাতত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজনীয়তা সরকার দেখছে না। তবে প্রয়োজন হলে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সুযোগ রয়েছে।
মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ এলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
তার ভাষায়, কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা অভিযোগ বা পর্যবেক্ষণ দিলে সেটি যাচাই-বাছাই করা সরকারের দায়িত্ব। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
































