ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরে দেশে ফিরেই আত্মসমর্পণের ঘোষণা হাসিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 66

ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা নিহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি স্বেচ্ছায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যা করা হতে পারে। তবুও তিনি ফিরবেন। তার ভাষায়, ‘আমার দলের নেতা-কর্মীরা ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই নিজের মাটিতেই আসুক—যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।’

বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শেখ হাসিনা জানান, তিনি ও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হয়, সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে বলে তার বিশ্বাস।

এটাই প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা প্রকাশ করলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন, যিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত।

শেখ হাসিনা বলেন, তাকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। তবে তিনি কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় নন। ‘আমি নিজেই দেশে ফিরব,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি ভারতসহ কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং বিচার—এসব বিষয় গোপন আলোচনার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে ফিরে কোন আদালতে বা ঠিক কবে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি শেখ হাসিনা। তবে তিনি বলেন, বিচার শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবে আদালতের কার্যক্রম কতটা প্রহসনের।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন, কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং হামলার শিকার হয়েছেন।

কারাভোগের আশঙ্কা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। অতীতে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়া এবং ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতে পারে, কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই রায় তিনি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিতে চান।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন নিয়ে অনলাইনে বৈঠক করেছেন।

আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, আমি হয়তো নির্বাচন করতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ রাখা হবে? আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, সেই সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডিসেম্বরে দেশে ফিরেই আত্মসমর্পণের ঘোষণা হাসিনার

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা নিহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি স্বেচ্ছায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যা করা হতে পারে। তবুও তিনি ফিরবেন। তার ভাষায়, ‘আমার দলের নেতা-কর্মীরা ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই নিজের মাটিতেই আসুক—যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।’

বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শেখ হাসিনা জানান, তিনি ও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হয়, সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে বলে তার বিশ্বাস।

এটাই প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা প্রকাশ করলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন, যিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত।

শেখ হাসিনা বলেন, তাকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। তবে তিনি কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় নন। ‘আমি নিজেই দেশে ফিরব,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি ভারতসহ কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং বিচার—এসব বিষয় গোপন আলোচনার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে ফিরে কোন আদালতে বা ঠিক কবে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি শেখ হাসিনা। তবে তিনি বলেন, বিচার শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবে আদালতের কার্যক্রম কতটা প্রহসনের।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তার সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন, কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং হামলার শিকার হয়েছেন।

কারাভোগের আশঙ্কা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। অতীতে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়া এবং ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতে পারে, কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই রায় তিনি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিতে চান।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন নিয়ে অনলাইনে বৈঠক করেছেন।

আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, আমি হয়তো নির্বাচন করতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ রাখা হবে? আমরা যদি খারাপ কাজ করে থাকি, সেই সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।’