ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়েটে নতুন ভিসিকে ঢুকতে দিলেন না শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 30

চুয়েটে নতুন ভিসিকে ঢুকতে দিলেন না শিক্ষার্থীরা

উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

এর আগে সোমবার রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। আন্দোলনকারীদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে কোনো যৌক্তিক কারণ না দেখিয়ে মাত্র এক মাস ২২ দিনের মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে একই দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মানববন্ধনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।

চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদুল হাসান বলেন, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস ২২ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছিল। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে তাকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, এর সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক কারণ জানতে চান তারা।

পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বশির জিসান বলেন, একজন উপাচার্যকে পদে রাখার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ঘটনা বিরল। তবে অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের একটি ভিশন দিয়েছেন বলেই তারা তার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন। নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

আন্দোলনরত যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার রাত থেকেই কর্মসূচি চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সোমবার রাতে অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধার ঘটনায় চুয়েটের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চুয়েটে নতুন ভিসিকে ঢুকতে দিলেন না শিক্ষার্থীরা

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৬:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

এর আগে সোমবার রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। আন্দোলনকারীদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে কোনো যৌক্তিক কারণ না দেখিয়ে মাত্র এক মাস ২২ দিনের মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে একই দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মানববন্ধনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।

চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদুল হাসান বলেন, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস ২২ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছিল। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে তাকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, এর সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক কারণ জানতে চান তারা।

পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বশির জিসান বলেন, একজন উপাচার্যকে পদে রাখার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ঘটনা বিরল। তবে অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের একটি ভিশন দিয়েছেন বলেই তারা তার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন। নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

আন্দোলনরত যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার রাত থেকেই কর্মসূচি চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সোমবার রাতে অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের বাধার ঘটনায় চুয়েটের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।