ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জবিতে মব তৈরির চেষ্টা করেছে শিবির, শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 28

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটকে ইস্যু করে শিবির ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহত করেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে) মো. মোজাম্মেল মামুন ডেনি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল দাবি করে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে ‘মব রাজনীতি’ দেখা গেছে, তারই ধারাবাহিকতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে সংগঠনটির দাবি।

ছাত্রদলের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে শিবির বিভিন্ন উপায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) একটি অংশের ওপর প্রভাব বিস্তার করলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কিংবা আবাসন সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং আবাসন সমস্যার সমাধানের বিভিন্ন উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হল চালু হয়েছে এবং তৃতীয় একটি হল নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এমন সময় আবাসন ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষার্থী মেসে কষ্টকর পরিবেশে বসবাস করায় আবাসন সংকট নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ছাত্রদলের দাবি, স্থায়ী ও অস্থায়ী আবাসনের বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা শিবিরের একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল, যার উদ্দেশ্য চলমান আবাসন আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা।

সংগঠনটি আরও জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও আবাসন পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে শিবিরের কর্মসূচিকে তাদের সমর্থিত জকসু প্রতিনিধিদের ব্যর্থতা আড়াল করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল অভিযোগ করে, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা চলছে। সংগঠনটি দাবি করে, তারা সব সময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করছে।

একই সঙ্গে ছাত্রশিবিরের প্রতি ‘সহমর্মিতার রাজনীতিতে’ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রদল সতর্ক করে বলে, অন্যথায় তাদের জনরোষের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান সংগঠনের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জবিতে মব তৈরির চেষ্টা করেছে শিবির, শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করেছে

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটকে ইস্যু করে শিবির ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহত করেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে) মো. মোজাম্মেল মামুন ডেনি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল দাবি করে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে ‘মব রাজনীতি’ দেখা গেছে, তারই ধারাবাহিকতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে সংগঠনটির দাবি।

ছাত্রদলের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে শিবির বিভিন্ন উপায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) একটি অংশের ওপর প্রভাব বিস্তার করলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কিংবা আবাসন সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং আবাসন সমস্যার সমাধানের বিভিন্ন উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হল চালু হয়েছে এবং তৃতীয় একটি হল নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এমন সময় আবাসন ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষার্থী মেসে কষ্টকর পরিবেশে বসবাস করায় আবাসন সংকট নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ছাত্রদলের দাবি, স্থায়ী ও অস্থায়ী আবাসনের বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা শিবিরের একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল, যার উদ্দেশ্য চলমান আবাসন আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা।

সংগঠনটি আরও জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও আবাসন পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে শিবিরের কর্মসূচিকে তাদের সমর্থিত জকসু প্রতিনিধিদের ব্যর্থতা আড়াল করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল অভিযোগ করে, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা চলছে। সংগঠনটি দাবি করে, তারা সব সময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করছে।

একই সঙ্গে ছাত্রশিবিরের প্রতি ‘সহমর্মিতার রাজনীতিতে’ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রদল সতর্ক করে বলে, অন্যথায় তাদের জনরোষের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান সংগঠনের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন।