রামিসা হত্যাকাণ্ড
গর্বিত পিতা হতে চেয়েছিলাম, ধর্ষিতার বাবা নই
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 36
“আমি একজন ধর্ষিতার বাবা, একজন খণ্ডিত লাশের বাবা। কিন্তু আমি তো এভাবে পরিচিত হতে চাইনি। আমি গর্বিত পিতা হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম।” আজ শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই আকুতি জানান পল্লবীতে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার আট বছর বয়সী এক শিশুর হতভাগ্য বাবা। বিএনপির উদ্যোগে গঠিত ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’ কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক এক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তিনি এই হৃদয়বিদারক বক্তব্য দেন। এই বাবা সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “আমি জানতে চাই—এই দায়িত্ব কে নেবে? এই দায়িত্ব কি আমার অবহেলা, সমাজের অবহেলা, না রাষ্ট্রের অবহেলা? আমি কি তার জন্য দায়ী? না কে দায়ী?”
নিহত শিশুটির বাবা হাত জোড় করে সবার কাছে অন্তত এমন একটি নিরাপদ সমাজব্যবস্থা নিশ্চিত করার আবেদন জানান, যেখানে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি হবে না। তিনি জানান, এই পাশবিক ঘটনার ১৩ দিন পার হয়ে গেলেও তাঁর স্ত্রী এখনো চরম মানসিক ট্রমায় ভুগছেন এবং দিন-রাত জিন্দা লাশের মতো বেঁচে আছেন। নিজের বড় মেয়েসহ দেশের সকল শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি একটি বাস্তব উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, গতকাল তাঁর বাড়িতে আসা মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশুও এখন ‘ধর্ষণ’ শব্দটি শিখে গেছে এবং আতঙ্কে একা টয়লেটেও যেতে পারছে না। এটাই মূলত বর্তমান বাংলাদেশের শিশুদের মানসিক বিপর্যয় ও বাস্তব চিত্র বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে ওই শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই মূল আসামি সোহেলকে পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। এই ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আগামীকাল ৭ জুন (রবিবার) আদালত এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। শিশুটির বাবা তাঁর সন্তান হত্যার সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
আজকের এই শিশু নির্যাতন ও করণীয় গোলটেবিল বৈঠক এ আরও অংশ নেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও চিকিৎসকরা। আইনি ও সামাজিক নীতিমালার কারণে প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।































