ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে আমনের বীজতলা

চরফ্যাশন প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 26

বৃষ্টিতে নষ্ট আমনের বীজতলা, নতুন করে মাঠে কৃষক

টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে চরফ্যাশনের উপকূলীয় এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত। পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও বীজতলা ও সবজি রক্ষা করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাজারো কৃষকের।

তবে হাল ছাড়েননি কৃষকরা। বৃষ্টি থামতেই আবার নতুন করে বীজতলা তৈরির কাজে নেমেছেন তারা। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকরা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয়। এসব আমনের চারা শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত রোপণ করা হয়। এবার তারা সময়মতো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে গত ১০ দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নদ-নদীতেও পানি বেড়েছে। ফলে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার অনেক এলাকায় বীজতলা পুরোপুরি পানির নিচে রয়েছে।

হাজারীগঞ্জ চরফকিরা ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আবহাওয়া ভালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে জমি বাছাই করে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষক মো. সিরাজ পাটওয়ারি জানান, বৃষ্টি থামার পর নতুন করে জমি প্রস্তুত করে বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেছেন তিনি।

কৃষক মো. রফিক ও মো. হারুন জানান, ঘন ঘন বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে গেছে। সবগুলো চারা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য বেশি দামে বীজ কিনতে হচ্ছে। এতে আমন চাষ প্রায় ২০ দিন পিছিয়ে যাবে।

তারা আরও জানান, আষাঢ়ের ১৫ তারিখ পর্যন্ত টানা বৃষ্টির কারণে শ্রাবণের ৫ তারিখে বীজতলা তৈরির জন্য জমি প্রস্তুত করতে হচ্ছে। সময় পিছিয়ে যাওয়ায় অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও দেরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ফলনে।

এদিকে চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, এ বছর প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৭০ হেক্টর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারেন এবং যাদের বীজতলা নষ্ট হয়েছে তারা দ্রুত নতুন করে বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চরফ্যাশনে ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে আমনের বীজতলা

সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে চরফ্যাশনের উপকূলীয় এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত। পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও বীজতলা ও সবজি রক্ষা করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হাজারো কৃষকের।

তবে হাল ছাড়েননি কৃষকরা। বৃষ্টি থামতেই আবার নতুন করে বীজতলা তৈরির কাজে নেমেছেন তারা। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকরা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয়। এসব আমনের চারা শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত রোপণ করা হয়। এবার তারা সময়মতো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে গত ১০ দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নদ-নদীতেও পানি বেড়েছে। ফলে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার অনেক এলাকায় বীজতলা পুরোপুরি পানির নিচে রয়েছে।

হাজারীগঞ্জ চরফকিরা ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আবহাওয়া ভালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে জমি বাছাই করে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষক মো. সিরাজ পাটওয়ারি জানান, বৃষ্টি থামার পর নতুন করে জমি প্রস্তুত করে বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেছেন তিনি।

কৃষক মো. রফিক ও মো. হারুন জানান, ঘন ঘন বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে গেছে। সবগুলো চারা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য বেশি দামে বীজ কিনতে হচ্ছে। এতে আমন চাষ প্রায় ২০ দিন পিছিয়ে যাবে।

তারা আরও জানান, আষাঢ়ের ১৫ তারিখ পর্যন্ত টানা বৃষ্টির কারণে শ্রাবণের ৫ তারিখে বীজতলা তৈরির জন্য জমি প্রস্তুত করতে হচ্ছে। সময় পিছিয়ে যাওয়ায় অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও দেরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ফলনে।

এদিকে চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, এ বছর প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৭০ হেক্টর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারেন এবং যাদের বীজতলা নষ্ট হয়েছে তারা দ্রুত নতুন করে বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেন।