ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামের উপসর্গে নোয়াখালীতে এক শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 93

হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে সাত বছর বয়সী শিশু মো. সামিতের বেদনাদায়ক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। সংশ্লিষ্ট জেলাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ (ICU) সহায়তার জরুরি প্রয়োজন থাকলেও সেই বিশেষ সুবিধা না থাকায় শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দিন দিন সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলো উন্নত বেসরকারি ক্লিনিকে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় সরকারি অব্যবস্থাপনার নির্মম শিকার হচ্ছে। মূলত হামের উপসর্গে নোয়াখালীতে এক শিশুর মৃত্যু শিরোনামের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি আজ সকাল থেকেই স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি করেছে। মৃত শিশুটি জেলার সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মফিজুল হকের সন্তান বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে তীব্র জ্বর, শরীরে ছড়ানো র‍্যাশ এবং প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় সামিতকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বর্তমানে হামের উপসর্গে নোয়াখালীতে এক শিশুর মৃত্যু হওয়ার নেপথ্য কারণ নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান যে, শিশুটির কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য আইসিইউ সাপোর্ট অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের জন্য কোনো আইসিইউ বেড খালি বা সচল না থাকায় চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত অন্য কোথাও স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের কারণে তাকে শহরের দামি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

নোয়াখালী অঞ্চলে হঠাৎ করেই শিশুদের মাঝে এই ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণ ও প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হামের উপসর্গে নোয়াখালীতে এক শিশুর মৃত্যু হওয়ার পাশাপাশি জানা গেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টাতেই এই হাসপাতালে নতুন করে আরও ৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে মোট ৯৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হামের উপসর্গে নোয়াখালীতে এক শিশুর মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে সাত বছর বয়সী শিশু মো. সামিতের বেদনাদায়ক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালটির শিশু ওয়ার্ডে সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। সংশ্লিষ্ট জেলাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ (ICU) সহায়তার জরুরি প্রয়োজন থাকলেও সেই বিশেষ সুবিধা না থাকায় শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দিন দিন সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলো উন্নত বেসরকারি ক্লিনিকে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় সরকারি অব্যবস্থাপনার নির্মম শিকার হচ্ছে। মূলত হামের উপসর্গে নোয়াখালীতে এক শিশুর মৃত্যু শিরোনামের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি আজ সকাল থেকেই স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি করেছে। মৃত শিশুটি জেলার সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মফিজুল হকের সন্তান বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে তীব্র জ্বর, শরীরে ছড়ানো র‍্যাশ এবং প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় সামিতকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বর্তমানে হামের উপসর্গে নোয়াখালীতে এক শিশুর মৃত্যু হওয়ার নেপথ্য কারণ নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান যে, শিশুটির কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য আইসিইউ সাপোর্ট অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের জন্য কোনো আইসিইউ বেড খালি বা সচল না থাকায় চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত অন্য কোথাও স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে পরিবারের চরম আর্থিক অনটনের কারণে তাকে শহরের দামি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

নোয়াখালী অঞ্চলে হঠাৎ করেই শিশুদের মাঝে এই ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণ ও প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হামের উপসর্গে নোয়াখালীতে এক শিশুর মৃত্যু হওয়ার পাশাপাশি জানা গেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টাতেই এই হাসপাতালে নতুন করে আরও ৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে মোট ৯৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।