ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দিয়ে চলছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ পাল্টাপাল্টি হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 10

লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধের হুমকি দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

লেবানন সরকার জানিয়েছে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইসরায়েল বৈরুত ও এর উপকণ্ঠে হামলা বন্ধ রাখবে এবং হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকবে।

তবে এই চুক্তি পুরো সংঘাতের অবসান ঘটাবে না বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত লেবাননের দূতাবাস। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবানন থেকে ছোড়া দুটি প্রজেক্টাইল উত্তর ইসরায়েলের আকাশে প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম এই সমঝোতার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বৈরুতমুখী সামরিক অভিযান স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলবে। বর্তমানে দেশটির সেনারা জাহরানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে লেবাননে তাদের সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ।

হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তে তারা সারা লেবাননে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তবে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি।

বুধবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধবিরতির পরিধি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবে লেবানন। সফল হলে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের পথ খুলতে পারে।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই কার্যকর হওয়া উচিত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরান ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে এবং প্রয়োজনে এপ্রিল থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতিও বাতিল করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি আলোচনা নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ নেই। তিনি মন্তব্য করেন, আলোচনাগুলো ‘খুবই একঘেয়ে’ হয়ে গেছে এবং তা ভেঙে গেলেও তার কোনো উদ্বেগ নেই।

এ সময় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও অবরোধ বিস্তারের হুমকি দেন। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দিয়ে চলছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ পাল্টাপাল্টি হামলা

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধের হুমকি দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

লেবানন সরকার জানিয়েছে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইসরায়েল বৈরুত ও এর উপকণ্ঠে হামলা বন্ধ রাখবে এবং হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকবে।

তবে এই চুক্তি পুরো সংঘাতের অবসান ঘটাবে না বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত লেবাননের দূতাবাস। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবানন থেকে ছোড়া দুটি প্রজেক্টাইল উত্তর ইসরায়েলের আকাশে প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম এই সমঝোতার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বৈরুতমুখী সামরিক অভিযান স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলবে। বর্তমানে দেশটির সেনারা জাহরানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে লেবাননে তাদের সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ।

হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তে তারা সারা লেবাননে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তবে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি।

বুধবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধবিরতির পরিধি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবে লেবানন। সফল হলে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের পথ খুলতে পারে।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই কার্যকর হওয়া উচিত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরান ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে এবং প্রয়োজনে এপ্রিল থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতিও বাতিল করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি আলোচনা নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ নেই। তিনি মন্তব্য করেন, আলোচনাগুলো ‘খুবই একঘেয়ে’ হয়ে গেছে এবং তা ভেঙে গেলেও তার কোনো উদ্বেগ নেই।

এ সময় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও অবরোধ বিস্তারের হুমকি দেন। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।