ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে আবেগঘন সাক্ষ্য বাবা-মায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 9

রামিসার বাবা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দুজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন।

ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্য দেন রামিসার বাবা-মা। জবানবন্দিতে আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, ঘটনার দিন অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। ভবনের তৃতীয় তলায় অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে জানতে পারেন, তার মেয়ে রামিসা ভেতরে আটকা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয়দের চেষ্টায় দরজা খোলার পর ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ দেখা যায়। পরে একটি স্টিলের খাটের নিচে মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।

জেরার সময় তিনি আদালতকে জানান, যা দেখেছেন শুধু সেটুকুই বলেছেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা বা ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না বলেও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, রামিসার মা পারভীন আক্তার আদালতে বলেন, ঘটনার দিন রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকাকালে বড় মেয়েকে ছোট বোনকে নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় যেতে বলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর বড় মেয়ে একা ফিরে এলে রামিসাকে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তিনি জানান, তৃতীয় তলায় অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের দরজার নিচে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। বারবার ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তিনি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা জড়ো হন। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে ভেতরে এক আসামিকে দেখা যায়।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের দিকে ইঙ্গিত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন পারভীন আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া ঘটনার পর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনেছেন বলেও আদালতকে জানান।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে আবেগঘন সাক্ষ্য বাবা-মায়ের

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দুজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন।

ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্য দেন রামিসার বাবা-মা। জবানবন্দিতে আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, ঘটনার দিন অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। ভবনের তৃতীয় তলায় অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে জানতে পারেন, তার মেয়ে রামিসা ভেতরে আটকা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয়দের চেষ্টায় দরজা খোলার পর ঘরের ভেতরে রক্তের দাগ দেখা যায়। পরে একটি স্টিলের খাটের নিচে মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।

জেরার সময় তিনি আদালতকে জানান, যা দেখেছেন শুধু সেটুকুই বলেছেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা বা ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না বলেও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, রামিসার মা পারভীন আক্তার আদালতে বলেন, ঘটনার দিন রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকাকালে বড় মেয়েকে ছোট বোনকে নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় যেতে বলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর বড় মেয়ে একা ফিরে এলে রামিসাকে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তিনি জানান, তৃতীয় তলায় অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের দরজার নিচে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। বারবার ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তিনি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা জড়ো হন। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে ভেতরে এক আসামিকে দেখা যায়।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের দিকে ইঙ্গিত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন পারভীন আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া ঘটনার পর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান বলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনেছেন বলেও আদালতকে জানান।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন দিন নির্ধারণ করেন আদালত।