মন্ত্রিসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 43
জাতীয় সংসদে পেশ করার আগে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বিশেষ নীতিগত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রচলিত দীর্ঘদিনের সংসদীয় রীতি ও নিয়ম অনুযায়ী, বাজেট অধিবেশনে জনসমক্ষে বাজেট উপস্থাপনের ঠিক কিছু সময় আগে মন্ত্রিপরিষদের এই বিশেষ সভা আহ্বান করা হয় এবং সেখানে খসড়া বাজেটের রাষ্ট্রীয় অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন। এর পরপরই স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে তাঁর জীবনের প্রথম বাজেট পেশ করবেন। উল্লেখ্য, এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ৫৫তম এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার বা ব্যয় ধরা হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা টাকার অঙ্কে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ মেগা বাজেট হিসেবে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। এই বিশাল ব্যয় মেটানোর জন্য বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বরাবরের মতোই আয় ও ব্যয়ের মাঝে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার একটি বড় ঘাটতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এর পাশাপাশি দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির (Inflation) লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার একটি বড় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন গতিশীল রাখতে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার একটি বিশাল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। এই উন্নয়ন বাজেটের বিশাল ব্যয়ের সিংহভাগই আসবে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে।
চূড়ান্ত হওয়া এডিপিতে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা তহবিল থেকে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের স্বার্থে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তা অর্থাৎ বিদেশি অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল উন্নয়ন বাজেট ও করকাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাগুলোই আজ বিকেলে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বিস্তারিত আকারে জাতির সামনে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

































