ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল নিয়ে সুখবর নেই

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 29

পে-স্কেল নিয়ে সুখবর নেই

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল) ঘোষণায় আরও সময় লাগছে। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের যে প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত স্থগিত হয়েছে। সরকারের সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বার্ষিক সভার আগে আগামী অক্টোবরে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।

গতকাল রোববার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফ অন্তত দুই বছর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে এসে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে এ সুপারিশ করে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ প্রস্তাবে আগ্রহী নন। তারা পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও ঘোষণার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনার পক্ষে রয়েছেন।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে স্কেল-সংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা, অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ এবং বিদ্যমান আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সার্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রস্তাবটি আরও বিশদভাবে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটিকে আরও অন্তত দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করারও চেষ্টা থাকবে। কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের পর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ বিভাগ গেজেট প্রকাশ করবে। ধাপে ধাপে নতুন পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইএমএফের পর্যবেক্ষণ ও আপত্তিও আলোচনায় উঠে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা, দেশে গ্যাস সরবরাহের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয় কতটা বাস্তবসম্মত হবে, সেটিও পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফ চাইছে বিষয়টি অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হোক। এতে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনার সময় পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হবে। এরপর নভেম্বরে আইএমএফের আরেকটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি ও পে স্কেল বিষয়ে আরও আলোচনা করতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতনের ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি এবং কয়েক দফা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন জাতীয় পে স্কেল আর ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের যাতায়াত ভাতার কাঠামো পরিবর্তন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে সচিব কমিটি কমিশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কিছু কাটছাঁটসহ সংশোধিত একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশ, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তিনটি প্রতিবেদনের আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এজন্য ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বেতন কার্যকর হবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই এবং প্রাপ্য বকেয়া সুবিধাও চাকরিজীবীরা পাবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পে-স্কেল নিয়ে সুখবর নেই

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (পে স্কেল) ঘোষণায় আরও সময় লাগছে। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের যে প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত স্থগিত হয়েছে। সরকারের সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বার্ষিক সভার আগে আগামী অক্টোবরে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।

গতকাল রোববার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফ অন্তত দুই বছর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে এসে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে এ সুপারিশ করে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ প্রস্তাবে আগ্রহী নন। তারা পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও ঘোষণার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনার পক্ষে রয়েছেন।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পে স্কেল-সংক্রান্ত ফোকাল কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা, অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ এবং বিদ্যমান আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সার্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রস্তাবটি আরও বিশদভাবে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটিকে আরও অন্তত দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করারও চেষ্টা থাকবে। কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের পর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ বিভাগ গেজেট প্রকাশ করবে। ধাপে ধাপে নতুন পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাজেট ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইএমএফের পর্যবেক্ষণ ও আপত্তিও আলোচনায় উঠে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা, দেশে গ্যাস সরবরাহের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয় কতটা বাস্তবসম্মত হবে, সেটিও পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফ চাইছে বিষয়টি অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হোক। এতে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনার সময় পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হবে। এরপর নভেম্বরে আইএমএফের আরেকটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি ও পে স্কেল বিষয়ে আরও আলোচনা করতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতনের ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি এবং কয়েক দফা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন জাতীয় পে স্কেল আর ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের যাতায়াত ভাতার কাঠামো পরিবর্তন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে সচিব কমিটি কমিশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কিছু কাটছাঁটসহ সংশোধিত একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশ, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তিনটি প্রতিবেদনের আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এজন্য ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও, সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বেতন কার্যকর হবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই এবং প্রাপ্য বকেয়া সুবিধাও চাকরিজীবীরা পাবেন।