ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেব’: ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 9

‘পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেব’: ড. ইউনূস

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে নতুন বাংলাদেশ গঠনের অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, কোনো সময় জাতি পথ হারালে এই জাদুঘরই সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেব। আমাদের চিন্তা বা কাজে যদি কখনও বিচ্যুতি আসে, এখান থেকেই সেই ভুল শুধরে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাব।”

ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বিভিন্ন ধরনের জাদুঘর রয়েছে, তবে এ জাদুঘরের বিশেষত্ব হলো; গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সময় থেকেই সংশ্লিষ্ট দলিল, স্মারক, নিদর্শন ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

তিনি বলেন, “ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তার স্মৃতি ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। এর মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।”

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অনেক তরুণ নিজেদের অনুভূতি, স্বপ্ন ও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণ চিঠিতে লিখে গেছেন। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে কেন তারা রাজপথে নেমেছিলেন, সেই কথাও উঠে এসেছে এসব লেখায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের তরুণদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অন্তত একবার জাদুঘরটি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু ইতিহাস দেখার স্থান নয়; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার এবং নতুন স্বপ্ন নির্মাণেরও একটি জায়গা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই জাদুঘর সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদের পরিচয়, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে, যাতে মানুষ জানতে পারে তারা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

তিনি বলেন, “তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছিলেন না। তারা ছিলেন সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে, যারা বিশ্বাস করতেন; বাংলাদেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে পরিবর্তন প্রয়োজন।”

জাদুঘর নির্মাণে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহের পেছনে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নিষ্ঠা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে জাদুঘরটি পরিদর্শন করবেন এবং এখান থেকে ইতিহাস, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রেরণা গ্রহণ করবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেব’: ড. ইউনূস

সর্বশেষ আপডেট ১২:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে নতুন বাংলাদেশ গঠনের অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, কোনো সময় জাতি পথ হারালে এই জাদুঘরই সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেব। আমাদের চিন্তা বা কাজে যদি কখনও বিচ্যুতি আসে, এখান থেকেই সেই ভুল শুধরে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাব।”

ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বিভিন্ন ধরনের জাদুঘর রয়েছে, তবে এ জাদুঘরের বিশেষত্ব হলো; গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সময় থেকেই সংশ্লিষ্ট দলিল, স্মারক, নিদর্শন ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

তিনি বলেন, “ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তার স্মৃতি ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। এর মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।”

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অনেক তরুণ নিজেদের অনুভূতি, স্বপ্ন ও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণ চিঠিতে লিখে গেছেন। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে কেন তারা রাজপথে নেমেছিলেন, সেই কথাও উঠে এসেছে এসব লেখায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের তরুণদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অন্তত একবার জাদুঘরটি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু ইতিহাস দেখার স্থান নয়; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার এবং নতুন স্বপ্ন নির্মাণেরও একটি জায়গা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই জাদুঘর সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদের পরিচয়, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে, যাতে মানুষ জানতে পারে তারা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

তিনি বলেন, “তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছিলেন না। তারা ছিলেন সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে, যারা বিশ্বাস করতেন; বাংলাদেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে পরিবর্তন প্রয়োজন।”

জাদুঘর নির্মাণে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহের পেছনে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও নিষ্ঠা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে জাদুঘরটি পরিদর্শন করবেন এবং এখান থেকে ইতিহাস, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রেরণা গ্রহণ করবেন।