ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন শি জিনপিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 125

বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু আবারও কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। শি সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রশ্নে ভুল সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের আনুষ্ঠানিক পরিবেশ দেখা যায়। ট্রাম্পকে গার্ড অব অনার ও শিশুদের পতাকা নেড়ে স্বাগত জানানো হয়। তবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের আড়ালে রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে আলোচনায়।

বৈঠকে ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণও জানান তিনি।

অন্যদিকে শি জিনপিং আলোচনায় তাইওয়ানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে ভুলভাবে পরিচালনা করা হলে দুই দেশের সম্পর্ক গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তার মতে, তাইওয়ান স্বাধীনতা ও দুই প্রান্তের শান্তি একসঙ্গে চলতে পারে না—এটি জল ও আগুনের মতো পরস্পরবিরোধী।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে, যদিও দ্বীপটি স্বশাসিত। যুক্তরাষ্ট্র আবার তাইওয়ানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখে এবং অস্ত্র বিক্রিও করে থাকে। তবে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার উৎস।

হোয়াইট হাউস বৈঠককে “ভালো” হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তাদের বিবৃতিতে তাইওয়ান ইস্যুর উল্লেখ ছিল না। বরং অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মার্কিন কোম্পানির বাজার প্রবেশাধিকার, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কিছু বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হয়।

ফেন্টানিল নিয়ন্ত্রণ এবং চীনের কৃষিপণ্য ক্রয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য আশাবাদের মধ্যেও তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের মৌলিক পার্থক্য এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন শি জিনপিং

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু আবারও কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। শি সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রশ্নে ভুল সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের আনুষ্ঠানিক পরিবেশ দেখা যায়। ট্রাম্পকে গার্ড অব অনার ও শিশুদের পতাকা নেড়ে স্বাগত জানানো হয়। তবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের আড়ালে রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে আলোচনায়।

বৈঠকে ট্রাম্প দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণও জানান তিনি।

অন্যদিকে শি জিনপিং আলোচনায় তাইওয়ানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে ভুলভাবে পরিচালনা করা হলে দুই দেশের সম্পর্ক গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তার মতে, তাইওয়ান স্বাধীনতা ও দুই প্রান্তের শান্তি একসঙ্গে চলতে পারে না—এটি জল ও আগুনের মতো পরস্পরবিরোধী।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে, যদিও দ্বীপটি স্বশাসিত। যুক্তরাষ্ট্র আবার তাইওয়ানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রাখে এবং অস্ত্র বিক্রিও করে থাকে। তবে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার উৎস।

হোয়াইট হাউস বৈঠককে “ভালো” হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তাদের বিবৃতিতে তাইওয়ান ইস্যুর উল্লেখ ছিল না। বরং অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মার্কিন কোম্পানির বাজার প্রবেশাধিকার, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কিছু বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হয়।

ফেন্টানিল নিয়ন্ত্রণ এবং চীনের কৃষিপণ্য ক্রয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য আশাবাদের মধ্যেও তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের মৌলিক পার্থক্য এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।