ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, তরুণীকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 6

কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, তরুণীকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নে এক তরুণী ও তার দুই ভাই-বোনকে মারধর, গাছে বেঁধে নির্যাতন এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তরুণীর কাছে কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে হাজী শরীয়তউল্লাহ কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছৈয়ালকান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ। ঘটনার দিন সকালে তরুণী তার ভাই-বোনকে নিয়ে মনিরের দোকানে গেলে তাকে রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে আপত্তি জানালে তিনজনকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

পরে চুরির অভিযোগ তুলে মনির মোল্লা, আফসানা, ফৌজিয়া সরদার, নিশি সরদারসহ কয়েকজন তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং তাকে জুতার মালা পরানো হয় বলেও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, অভিযোগ দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তারা বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

তবে অভিযুক্ত মনির মোল্লা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওই তরুণী ও তার ভাই-বোন তার দোকানে চুরি করেছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেছিল এবং তরুণীর চুল কাটার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, তরুণীকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতন

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নে এক তরুণী ও তার দুই ভাই-বোনকে মারধর, গাছে বেঁধে নির্যাতন এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তরুণীর কাছে কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে হাজী শরীয়তউল্লাহ কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছৈয়ালকান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ। ঘটনার দিন সকালে তরুণী তার ভাই-বোনকে নিয়ে মনিরের দোকানে গেলে তাকে রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে আপত্তি জানালে তিনজনকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

পরে চুরির অভিযোগ তুলে মনির মোল্লা, আফসানা, ফৌজিয়া সরদার, নিশি সরদারসহ কয়েকজন তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং তাকে জুতার মালা পরানো হয় বলেও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, অভিযোগ দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তারা বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

তবে অভিযুক্ত মনির মোল্লা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওই তরুণী ও তার ভাই-বোন তার দোকানে চুরি করেছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেছিল এবং তরুণীর চুল কাটার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।