ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তদন্ত কমিটি গঠন

ইবির হলে ছাত্রীর গোপন ছবি ফাঁসের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 5

ইবির হলে ছাত্রীর গোপন ছবি ফাঁসের অভিযোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলে বসবাসকারী এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে হলের আবাসিক ছাত্রীদের গোপন ছবি তুলে তা ব্যক্তিগতভাবে অন্য একজনের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন এবং তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে হল প্রভোস্টের কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জুলাই-৩৬ হলের আবাসিক শিক্ষক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার আরিফা আক্তারকে। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর ড. খাইরুল ইসলাম।

ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে হল কর্তৃপক্ষ অন্যান্য আবাসিক ছাত্রীর কাছ থেকেও লিখিত অভিযোগ ও তথ্য আহ্বান করেছে। আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে প্রভোস্ট বরাবর অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে ‘আবিদ’ নামে এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সম্পর্কের সময় তিনি বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন। পরে সম্পর্কের অবনতি হলে ওই ব্যক্তি সেসব ছবি ও ভিডিওর কিছু অংশ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রীর ছবি ওই ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব ছবি অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবির সমর্থনে তারা কিছু স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যক্তিগত ছবি অনলাইন বা অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকলে তা অপসারণ এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ঘটনাটি নিয়ে যেভাবে প্রচার হচ্ছে, তার অনেকটাই অতিরঞ্জিত। তিনি স্বীকার করেন, আবেগের বশে কিছু ভুল করেছেন, তবে কাউকে হেয় করা বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য ছিল না। নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে শাস্তি দেওয়া হোক, তবে তার শিক্ষাজীবন নষ্ট না করার অনুরোধ জানান।

জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি সভা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তদন্ত কমিটি গঠন

ইবির হলে ছাত্রীর গোপন ছবি ফাঁসের অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলে বসবাসকারী এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে হলের আবাসিক ছাত্রীদের গোপন ছবি তুলে তা ব্যক্তিগতভাবে অন্য একজনের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন এবং তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে হল প্রভোস্টের কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জুলাই-৩৬ হলের আবাসিক শিক্ষক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার আরিফা আক্তারকে। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামান এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর ড. খাইরুল ইসলাম।

ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে হল কর্তৃপক্ষ অন্যান্য আবাসিক ছাত্রীর কাছ থেকেও লিখিত অভিযোগ ও তথ্য আহ্বান করেছে। আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে প্রভোস্ট বরাবর অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে ‘আবিদ’ নামে এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সম্পর্কের সময় তিনি বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন। পরে সম্পর্কের অবনতি হলে ওই ব্যক্তি সেসব ছবি ও ভিডিওর কিছু অংশ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রীর ছবি ওই ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব ছবি অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবির সমর্থনে তারা কিছু স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যক্তিগত ছবি অনলাইন বা অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকলে তা অপসারণ এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ঘটনাটি নিয়ে যেভাবে প্রচার হচ্ছে, তার অনেকটাই অতিরঞ্জিত। তিনি স্বীকার করেন, আবেগের বশে কিছু ভুল করেছেন, তবে কাউকে হেয় করা বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য ছিল না। নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে শাস্তি দেওয়া হোক, তবে তার শিক্ষাজীবন নষ্ট না করার অনুরোধ জানান।

জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি সভা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।