ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ববিতে শিবির করায় মারধর, চাকরি হারানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 91

ববিতে শিবির করায় মারধর, চাকরি হারানোর অভিযোগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মারধরের পর কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে কার্যত চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তার চুক্তির মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী মো. সাকিব খান (ইসমাইল) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দৈনিক মজুরিভিত্তিক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আনন্দ বাজার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল হাসান তৌফিক, মাহমুদুল ইমরানসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী তাকে তুলে নিয়ে মারধর করেন। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক কর্মকর্তা তাকে ফোন করে নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মস্থলে না আসার পরামর্শ দেন।

সাকিব খান দাবি করেন, তিনি চা খেতে গেলে তাকে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের কর্মসূচিতে লোকবল সরবরাহের অভিযোগে মারধর করা হয়। তিনি বলেন, একপর্যায়ে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হয়। ঘটনার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোনে অভিযোগ জানান। প্রক্টর তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মূল কর্মচারী এইচএসসি পরীক্ষার দায়িত্বে ছুটিতে থাকায় গত ৫ জুলাই এক মাসের জন্য দৈনিক মজুরিভিত্তিক সাকিব খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওই কর্মচারীর দায়িত্বে ফেরার কথা থাকায় ৫ আগস্ট তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে সাকিবের অভিযোগ, শিবির করার কারণেই তাকে নিরাপত্তার অজুহাতে কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসাইন বলেন, ঘটনার সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় ছিলেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল এবং তিনি কিছু গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি এবং এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সুষ্মিতা রায় বলেন, সাকিব খানের নিয়োগ ছিল মাত্র এক মাসের জন্য। বুধবারই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই তাকে কর্মস্থলে না আসতে বলা হয়েছে। তার ভাষ্য, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মারধরের ঘটনাকে একসঙ্গে দেখার সুযোগ নেই; দুটি ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ববিতে শিবির করায় মারধর, চাকরি হারানোর অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মারধরের পর কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে কার্যত চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তার চুক্তির মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী মো. সাকিব খান (ইসমাইল) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দৈনিক মজুরিভিত্তিক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আনন্দ বাজার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল হাসান তৌফিক, মাহমুদুল ইমরানসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী তাকে তুলে নিয়ে মারধর করেন। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক কর্মকর্তা তাকে ফোন করে নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মস্থলে না আসার পরামর্শ দেন।

সাকিব খান দাবি করেন, তিনি চা খেতে গেলে তাকে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের কর্মসূচিতে লোকবল সরবরাহের অভিযোগে মারধর করা হয়। তিনি বলেন, একপর্যায়ে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হয়। ঘটনার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোনে অভিযোগ জানান। প্রক্টর তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মূল কর্মচারী এইচএসসি পরীক্ষার দায়িত্বে ছুটিতে থাকায় গত ৫ জুলাই এক মাসের জন্য দৈনিক মজুরিভিত্তিক সাকিব খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওই কর্মচারীর দায়িত্বে ফেরার কথা থাকায় ৫ আগস্ট তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে সাকিবের অভিযোগ, শিবির করার কারণেই তাকে নিরাপত্তার অজুহাতে কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসাইন বলেন, ঘটনার সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় ছিলেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল এবং তিনি কিছু গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি এবং এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সুষ্মিতা রায় বলেন, সাকিব খানের নিয়োগ ছিল মাত্র এক মাসের জন্য। বুধবারই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই তাকে কর্মস্থলে না আসতে বলা হয়েছে। তার ভাষ্য, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মারধরের ঘটনাকে একসঙ্গে দেখার সুযোগ নেই; দুটি ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।