যার দেয়া তথ্যে ধরা পড়লো ডেভিড ইমনসহ ৪ সন্ত্রাসী
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 12
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য, অস্ত্রের মজুদ এবং সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২১টি মামলা রয়েছে।
রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), মো. শামীম (২৮), মো. সাফায়েত হোসেন (২৪) এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ অভিযানে যশোর জেলা পুলিশ সহযোগিতা করে।
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অর্থায়ন এবং চক্রটির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে মো. মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।






























