যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ অনিবার্য: ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / 17
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ার মধ্যেই ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না এবং সে কারণে নতুন যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দিচ্ছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়ার উপপ্রধান মোহাম্মদ জাফর আসাদি মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ চায়, কিন্তু ইরানি জাতি কখনও তা মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, “আত্মসমর্পণ না করলে যুদ্ধ অনিবার্য।”
ইরানি বার্তা সংস্থা মেহরের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া চূড়ান্ত শান্তি প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনা করছে তেহরান। অতীতে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতার কারণে ইরান সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তেহরান বাস্তব ও দৃশ্যমান সুবিধা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চায় না।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। তবে একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলাবে না।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম দাবি করে, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান। যদিও ট্রাম্প পরে বলেন, আলোচনা এখনো দ্রুতগতিতে চলছে এবং ইরান তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্থগিতাদেশের কথা জানায়নি।
এদিকে লেবানন ইস্যুকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী । তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করা।
তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজনে বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও ড্রোন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানও একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

































