হঠাৎ চড়া ডলারের দাম, কেন বাড়ছে চাপ?
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৪:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 5
দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ডলারের দাম। আমদানি বিল পরিশোধে মার্কিন ডলারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আন্তঃব্যাংক বাজার, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং খোলা বাজার—সব ক্ষেত্রেই ডলারের দাম বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। একই দিনে স্পট মার্কেটে ডলার লেনদেন হয়েছে ১২৩ টাকা ৮৮ পয়সায়। এক মাস আগেও এই দর ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। তবে আমদানি বিল ও ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রতি ডলার কিনতে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উভয় কারণেই ডলারের বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে।
অন্যদিকে, রপ্তানির তুলনায় আমদানির ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দেশের আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে একই সময়ে রপ্তানি আয় প্রায় ২ শতাংশ কমে ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডলারের ওপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
ডলারের আরেকটি প্রধান উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহেও কিছুটা গতি কমেছে। গত অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠালেও, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার পর রেমিট্যান্সের প্রবাহ কিছুটা কমে এসেছে। টানা ছয় মাস মাসিক ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এলেও জুন ও জুলাইয়ে তা যথাক্রমে ২৮২ কোটি এবং ২৮৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
চাহিদা বাড়ায় ব্যাংকগুলোও বেশি দামে ডলার সংগ্রহ করতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে আন্তঃব্যাংক বাজার বা রেমিট্যান্স—কোনো উৎস থেকেই ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দামে ডলার কেনা না হয়।
ব্যাংকিং খাতের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খোলা বাজারেও। রাজধানীর মতিঝিলের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে দেখা গেছে, রোববার সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি ডলার ১২৬ টাকা থেকে ১২৬ টাকা ৪০ পয়সায় কেনা হয়েছে এবং বিক্রি হয়েছে ১২৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৮০ পয়সায়। এক মাস আগেও খোলা বাজারে ডলারের দাম ছিল ১২৫ টাকা থেকে ১২৫ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি শ্লথ হওয়ার কারণে আপাতত বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


































