ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অগ্রাধিকারে বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানি

অক্টোবরে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 6

ছবি: সংগৃহীত

আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি ও বৈঠকের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে।

সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, স্বল্পসুদে উন্নয়ন ঋণ, জ্বালানি সহযোগিতা, বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবসহ বিভিন্ন কৌশলগত ইস্যু গুরুত্ব পাবে।

সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ)। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার ৪০০টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এর ফলে রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথও সহজ হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সুফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এসব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টিও সফরের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে এলএনজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। যদিও নতুন কোনো শ্রমচুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরির অনুরোধ জানাবে ঢাকা। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে জাপানে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ হাজার। চলতি বছরের জুনের শেষ নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ৫৭ হাজারে পৌঁছেছে। বছরের শেষে এই সংখ্যা ৬২ হাজার এবং ২০২৭ সালের শেষে ৮৫ থেকে ৯০ হাজারে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনো নেপাল ও ভিয়েতনামের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটও সফরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচিতে থাকবে। বাংলাদেশ রাখাইনে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাপানের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করবে। ২০১৭ সালের পর থেকে জাপান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য ২৫ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চেও রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের সহায়তা ঘোষণা করে টোকিও।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের আদলে নতুন একটি শিল্প পার্ক গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখালে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি মারিয়া হাওলাদার মনে করেন, এই সফর জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার ভাষায়, সফরের মাধ্যমে জ্বালানি, অবকাঠামো, কৃষি, উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অগ্রাধিকারে বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানি

অক্টোবরে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি ও বৈঠকের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে।

সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, স্বল্পসুদে উন্নয়ন ঋণ, জ্বালানি সহযোগিতা, বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবসহ বিভিন্ন কৌশলগত ইস্যু গুরুত্ব পাবে।

সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ)। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার ৪০০টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এর ফলে রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথও সহজ হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সুফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এসব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টিও সফরের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে এলএনজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। যদিও নতুন কোনো শ্রমচুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরির অনুরোধ জানাবে ঢাকা। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে জাপানে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ হাজার। চলতি বছরের জুনের শেষ নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ৫৭ হাজারে পৌঁছেছে। বছরের শেষে এই সংখ্যা ৬২ হাজার এবং ২০২৭ সালের শেষে ৮৫ থেকে ৯০ হাজারে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনো নেপাল ও ভিয়েতনামের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটও সফরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচিতে থাকবে। বাংলাদেশ রাখাইনে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাপানের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করবে। ২০১৭ সালের পর থেকে জাপান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য ২৫ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চেও রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের সহায়তা ঘোষণা করে টোকিও।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের আদলে নতুন একটি শিল্প পার্ক গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখালে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি মারিয়া হাওলাদার মনে করেন, এই সফর জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার ভাষায়, সফরের মাধ্যমে জ্বালানি, অবকাঠামো, কৃষি, উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।