ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে গৃহবধূর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • / 121

ঈদের কেনাকাটায় বের হয়েছিলেন। কয়েক সেকেন্ডের এক হ্যাঁচকা টান—তারপরই সব শেষ। রাজধানীর উত্তরায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মারা গেলেন এক তরুণ গৃহবধূ।

বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে ঘটনাটি ঘটে। নিহত মুক্তা আক্তার (২১) গুরুতর আহত অবস্থায় একাধিক হাসপাতালে নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বামী লিমন হোসেনের ভাষ্য, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় তাদের বাসা। তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করেন, আর মুক্তা ছিলেন গৃহিণী। সকালে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটার জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে মিরপুর পল্লবীর একটি মার্কেটের উদ্দেশে রওনা দেন মুক্তা।

পথে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে পৌঁছাতেই একটি প্রাইভেটকার থেকে হাত বাড়িয়ে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। সেই টানেই ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। আঘাতটা ছিল মারাত্মক—বিশেষ করে মাথায়।

প্রথমে পথচারীরা তাকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সেখান থেকে পঙ্গু হাসপাতাল ঘুরে শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। কিন্তু এত পথ পেরোনোর পর আর তাকে বাঁচানো যায়নি।

মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামে। বাবা আব্দুল জলিল। প্রায় দুই বছর আগে লিমনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়—দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় সংসার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, মাথা ও কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে দিনের আলোয় এমন ছিনতাই—এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাজধানীতে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে গৃহবধূর মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ঈদের কেনাকাটায় বের হয়েছিলেন। কয়েক সেকেন্ডের এক হ্যাঁচকা টান—তারপরই সব শেষ। রাজধানীর উত্তরায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মারা গেলেন এক তরুণ গৃহবধূ।

বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে ঘটনাটি ঘটে। নিহত মুক্তা আক্তার (২১) গুরুতর আহত অবস্থায় একাধিক হাসপাতালে নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বামী লিমন হোসেনের ভাষ্য, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় তাদের বাসা। তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করেন, আর মুক্তা ছিলেন গৃহিণী। সকালে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটার জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে মিরপুর পল্লবীর একটি মার্কেটের উদ্দেশে রওনা দেন মুক্তা।

পথে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে পৌঁছাতেই একটি প্রাইভেটকার থেকে হাত বাড়িয়ে তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। সেই টানেই ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। আঘাতটা ছিল মারাত্মক—বিশেষ করে মাথায়।

প্রথমে পথচারীরা তাকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সেখান থেকে পঙ্গু হাসপাতাল ঘুরে শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। কিন্তু এত পথ পেরোনোর পর আর তাকে বাঁচানো যায়নি।

মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামে। বাবা আব্দুল জলিল। প্রায় দুই বছর আগে লিমনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়—দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় সংসার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, মাথা ও কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে দিনের আলোয় এমন ছিনতাই—এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।