বড় কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করবে সরকার
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 113
প্রস্তাবিত নীতিমালায় বড় করপোরেট কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা আনার কথা জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। একই সঙ্গে ব্যাংকনির্ভর ঋণের চাপ কমিয়ে বন্ড ও ক্যাপিটাল মার্কেটকে বিকল্প অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তোলার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
রাজধানীতে আয়োজিত একটি গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোকে ধাপে ধাপে শেয়ারবাজারে আনতে হবে। তাঁর মতে, অর্থনীতির কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করতে না পারলে সীমিত গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থেকেই যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।
তিনি ইঙ্গিত দেন, সরকার অর্থনীতিকে তুলনামূলকভাবে বেশি অংশগ্রহণমূলক করার দিকে এগোচ্ছে। শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো কতটা সম্ভব হচ্ছে—সেই প্রশ্নকেই এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এই রূপান্তর রাতারাতি ঘটবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যবসার খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগের কথাও উঠে আসে। বিভিন্ন ধাপে অনুমোদনের সংখ্যা কমিয়ে একটি সীমিত কাঠামোয় আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, যাতে বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন তুলনামূলক সহজ হয়।
এ ছাড়া ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দিকে পুরো অর্থনীতি ও প্রশাসনকে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় আসে। নাগরিক সেবা একক প্ল্যাটফর্মে আনার চিন্তাও রয়েছে, যদিও বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।
অর্থনৈতিক নীতিতে কর কাঠামো পুনর্গঠন, বড় করদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আয় নিরূপণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ব্যবস্থা চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে পলিসি প্রণয়নে দক্ষ জনবলকে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে আলোচনাটি অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখার ইঙ্গিত দেয়, যা তাৎক্ষণিক নয় বরং ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।































