ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষায় নকল ধরা পড়লে ৫ বছরের কারাদণ্ড!

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 51

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ এবং পরীক্ষার সব ধরনের আধুনিক অপরাধের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

গত রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

৪৫ বছরের পুরনো আইন সংশোধন:

সংসদে উপস্থাপিত বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সার্টিফিকেট তৈরি এবং অন্যান্য অনিয়মসহ অসদুপায় অবলম্বন রোধে আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর আগে ‘দি পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল বা অনলাইন মাধ্যমে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার কারণে বিদ্যমান পুরনো আইনের বেশ কয়েকটি ধারা এখন আর যুগোপযোগী নয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংঘটিত আধুনিক অপরাধগুলোকে কঠোর আইনি কাঠামোর আওতায় এনে একটি সুষ্ঠু ও অসদুপায়মুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন বিলের প্রধান নিয়ম ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:

১. মূল শাস্তির বিধান (ডিজিটাল কারসাজি):

৫ বছরের জেল ও জরিমানা: সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার মূল ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ (হ্যাক করা), ফলাফল ও মেধাতালিকা অবৈধভাবে পরিবর্তন বা যেকোনো ধরনের ডিজিটাল কারসাজিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই অপরাধে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হবে।

২. শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা:

ডিটেনশন ও আইনের আওতা: আসন্ন এইচএসসি বা যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর কাছে পরীক্ষা চলাকালীন নকল বা অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস (যেমন- স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ বা যেকোনো ডিভাইস) পাওয়া গেলে তাকে সরাসরি ডিটেনশনে নেওয়া হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।

পরীক্ষা বাতিল: প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অসদুপায় অবলম্বনকারী ওই শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বা সম্পূর্ণ পরীক্ষা বাতিল (Expelled) করা হবে।

৩. কেন্দ্রপ্রধান ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা:

প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাজা: শুধু শিক্ষার্থীই নয়, কোনো কেন্দ্রে যদি সুনির্দিষ্টভাবে নকল বা প্রশ্ন ফাঁসে সহায়তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সেই পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধান (সেন্টার সেক্রেটারি) বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকেও কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

৪. অপপ্রচার ও গুজব ছড়ালে শাস্তি:

সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি: পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র কিংবা নকল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি) মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা গুজব ছড়ালে পুলিশ সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তদন্তে সত্যতা বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হবে।

৫. কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি:

বডি-ওর্ন ক্যামেরা: পরীক্ষা কেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, হলরুমে বিশৃঙ্খলা ও নকল রোধে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ (Body-worn camera) ব্যবহার করবেন।

সিসিটিভি ক্যামেরা: দেশের প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি (CC) ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং পরীক্ষার দিনগুলোর সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, ডিজিটাল যুগে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জাতীয়ভাবে এর বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় উদ্ভূত নতুন সাইবার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এই সংশোধনী আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পরীক্ষায় নকল ধরা পড়লে ৫ বছরের কারাদণ্ড!

সর্বশেষ আপডেট ১১:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ এবং পরীক্ষার সব ধরনের আধুনিক অপরাধের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

গত রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

৪৫ বছরের পুরনো আইন সংশোধন:

সংসদে উপস্থাপিত বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সার্টিফিকেট তৈরি এবং অন্যান্য অনিয়মসহ অসদুপায় অবলম্বন রোধে আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর আগে ‘দি পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল বা অনলাইন মাধ্যমে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার কারণে বিদ্যমান পুরনো আইনের বেশ কয়েকটি ধারা এখন আর যুগোপযোগী নয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংঘটিত আধুনিক অপরাধগুলোকে কঠোর আইনি কাঠামোর আওতায় এনে একটি সুষ্ঠু ও অসদুপায়মুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন বিলের প্রধান নিয়ম ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:

১. মূল শাস্তির বিধান (ডিজিটাল কারসাজি):

৫ বছরের জেল ও জরিমানা: সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার মূল ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ (হ্যাক করা), ফলাফল ও মেধাতালিকা অবৈধভাবে পরিবর্তন বা যেকোনো ধরনের ডিজিটাল কারসাজিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই অপরাধে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হবে।

২. শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা:

ডিটেনশন ও আইনের আওতা: আসন্ন এইচএসসি বা যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর কাছে পরীক্ষা চলাকালীন নকল বা অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস (যেমন- স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ বা যেকোনো ডিভাইস) পাওয়া গেলে তাকে সরাসরি ডিটেনশনে নেওয়া হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।

পরীক্ষা বাতিল: প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অসদুপায় অবলম্বনকারী ওই শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বা সম্পূর্ণ পরীক্ষা বাতিল (Expelled) করা হবে।

৩. কেন্দ্রপ্রধান ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা:

প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাজা: শুধু শিক্ষার্থীই নয়, কোনো কেন্দ্রে যদি সুনির্দিষ্টভাবে নকল বা প্রশ্ন ফাঁসে সহায়তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সেই পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধান (সেন্টার সেক্রেটারি) বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকেও কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

৪. অপপ্রচার ও গুজব ছড়ালে শাস্তি:

সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি: পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র কিংবা নকল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি) মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা গুজব ছড়ালে পুলিশ সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তদন্তে সত্যতা বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হবে।

৫. কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি:

বডি-ওর্ন ক্যামেরা: পরীক্ষা কেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, হলরুমে বিশৃঙ্খলা ও নকল রোধে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ (Body-worn camera) ব্যবহার করবেন।

সিসিটিভি ক্যামেরা: দেশের প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি (CC) ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং পরীক্ষার দিনগুলোর সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, ডিজিটাল যুগে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জাতীয়ভাবে এর বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় উদ্ভূত নতুন সাইবার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এই সংশোধনী আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।