কুষ্টিয়ার মিরপুরে জাল সনদে সভাপতি হতে গিয়ে ধরা!
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 103
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আবুরী মাগুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হতে আবেদন করা এক প্রার্থীর শিক্ষাগত সনদ জাল বলে অভিযোগ উঠেছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জমা দেওয়া স্নাতক (বিএ অনার্স) সনদের কোনো অস্তিত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্রে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের অংশ হিসেবে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান চৌধুরী সভাপতি পদের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করেন। তাদের মধ্যে মালিহাদ ইউনিয়নের আবুরী গ্রামের বাসিন্দা আনারুল ইসলাম সভাপতি পদের জন্য নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত বিএ (অনার্স) ডিগ্রির একটি সনদ জমা দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৩ শিক্ষাবর্ষের স্মারক নম্বর জাতীঃ/বিঃ/পরীঃ/সনদ ৪৪৯/২০০৫/১০৪৮১ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০২৮২৪৭৪ উল্লেখ করে জমা দেওয়া ওই সনদটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যাবুলেশন শিট ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যাচাই-বাছাই সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সনদটি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
আনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের একাংশের দাবি, জাল সনদধারী কেউ বিদ্যালয়ের সভাপতি হলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে আনারুল ইসলামের মুঠোফোনে বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে এসেছে। অভিযুক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় নিয়েছেন।
অন্যদিকে এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজ গণমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোনো অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে জাল সনদের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”


































