ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতৃত্বে যুবনারীরা, বদলাচ্ছে ক্রিকেটের ধারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 439

উত্তরাঞ্চলের এক ব্যতিক্রমী টুর্নামেন্টে কিশোর-কিশোরীরা একসঙ্গে খেলায় অংশ নিয়ে ভাঙছে প্রচলিত ধারণা—নেতৃত্বে উঠে আসছে মেয়েরা।

নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে জেন্ডার-রূপান্তরমূলক উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী যুব ক্রিকেট আয়োজনে। বুধবার (১ এপ্রিল) উত্তরাঞ্চলে অনুষ্ঠিত “ব্যাটিং ফর চেঞ্জ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬”-এ কিশোর ও কিশোরীরা একসঙ্গে মাঠে নামে। এটাই এ অঞ্চলের প্রথম মিশ্র-জেন্ডার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

জলঢাকা উপজেলার মিরগঞ্জহাট এমএল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় কিশোর-কিশোরী, স্থানীয় কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। খেলাধুলার ভেতর দিয়ে জেন্ডার অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, স্থানীয় অংশীদার ইএসডিও’র সহযোগিতায় আয়োজনটি বাস্তবায়ন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জায়েদ ইমরুল মোজাক্কিন। স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। মিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা (মানিক)-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, কমিউনিটি সংগঠন ও যুব নেটওয়ার্কের সদস্যরা অংশ নেন—যা বহুমুখী অংশীদারিত্বের একটি চিত্র তুলে ধরে।

প্রধান অতিথি বলেন, “এই আয়োজন শুধু খেলা নয়; এটি দেখায় কীভাবে কিশোর-কিশোরীরা প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।”

মোট ২৬ জন কিশোর-কিশোরী নিয়ে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে অংশ নেয় দুইটি মিশ্র দল—ইউনিটি স্টিকারস ও ইকুয়ালিটি ওয়ারিওরস। প্রতিটি দলে ১৩ জন করে খেলোয়াড় ছিল, যেখানে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলক বেশি। প্রায় ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতি এই উদ্যোগের প্রতি স্থানীয় সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। খেলায় ইউনিটি স্টিকারস ৯ উইকেটে জয় পায়; ৯৬ রানের লক্ষ্য তারা ৭.১ ওভারেই পূরণ করে।

অনেক অংশগ্রহণকারীর কাছে এটি শুধু খেলা নয়, বরং এক ধরনের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের পরিণতি। কিশোরী খেলোয়াড় আনিতা বলেন, “মাঠে একজন মেয়ের উপস্থিতি নিজেই পরিবর্তনের বার্তা। শুরুতে বাধা ছিল, সমালোচনাও ছিল; তবু থামিনি—আজ সেটাই গর্বের জায়গা।”

এই আয়োজন ছেলেদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলেছে। খেলোয়াড় জুঁথির বাবা শাহিন ইসলাম বলেন, শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও এখন তিনি এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন—যেখানে ছেলে-মেয়ে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে একসঙ্গে খেলতে পারছে।

মাঠের বাইরে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট। অভিভাবক ও স্থানীয় নেতারা এখন মেয়েদের সক্ষমতা স্বীকার করতে শুরু করেছেন। পরিবারগুলো শিক্ষা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে মেয়েদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির মধ্যে সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে।

টুর্নামেন্ট শেষ হলেও এর বার্তাটি থেকে যাচ্ছে। সমান সুযোগ পেলে মেয়েরা শুধু অংশ নেয় না, নেতৃত্বও দেয়—আর সেই পথ ধরেই ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে সমাজের চেনা কাঠামো।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নেতৃত্বে যুবনারীরা, বদলাচ্ছে ক্রিকেটের ধারা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের এক ব্যতিক্রমী টুর্নামেন্টে কিশোর-কিশোরীরা একসঙ্গে খেলায় অংশ নিয়ে ভাঙছে প্রচলিত ধারণা—নেতৃত্বে উঠে আসছে মেয়েরা।

নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে জেন্ডার-রূপান্তরমূলক উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী যুব ক্রিকেট আয়োজনে। বুধবার (১ এপ্রিল) উত্তরাঞ্চলে অনুষ্ঠিত “ব্যাটিং ফর চেঞ্জ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬”-এ কিশোর ও কিশোরীরা একসঙ্গে মাঠে নামে। এটাই এ অঞ্চলের প্রথম মিশ্র-জেন্ডার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

জলঢাকা উপজেলার মিরগঞ্জহাট এমএল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় কিশোর-কিশোরী, স্থানীয় কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। খেলাধুলার ভেতর দিয়ে জেন্ডার অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, স্থানীয় অংশীদার ইএসডিও’র সহযোগিতায় আয়োজনটি বাস্তবায়ন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জায়েদ ইমরুল মোজাক্কিন। স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। মিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা (মানিক)-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, কমিউনিটি সংগঠন ও যুব নেটওয়ার্কের সদস্যরা অংশ নেন—যা বহুমুখী অংশীদারিত্বের একটি চিত্র তুলে ধরে।

প্রধান অতিথি বলেন, “এই আয়োজন শুধু খেলা নয়; এটি দেখায় কীভাবে কিশোর-কিশোরীরা প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।”

মোট ২৬ জন কিশোর-কিশোরী নিয়ে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে অংশ নেয় দুইটি মিশ্র দল—ইউনিটি স্টিকারস ও ইকুয়ালিটি ওয়ারিওরস। প্রতিটি দলে ১৩ জন করে খেলোয়াড় ছিল, যেখানে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলক বেশি। প্রায় ৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতি এই উদ্যোগের প্রতি স্থানীয় সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। খেলায় ইউনিটি স্টিকারস ৯ উইকেটে জয় পায়; ৯৬ রানের লক্ষ্য তারা ৭.১ ওভারেই পূরণ করে।

অনেক অংশগ্রহণকারীর কাছে এটি শুধু খেলা নয়, বরং এক ধরনের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের পরিণতি। কিশোরী খেলোয়াড় আনিতা বলেন, “মাঠে একজন মেয়ের উপস্থিতি নিজেই পরিবর্তনের বার্তা। শুরুতে বাধা ছিল, সমালোচনাও ছিল; তবু থামিনি—আজ সেটাই গর্বের জায়গা।”

এই আয়োজন ছেলেদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলেছে। খেলোয়াড় জুঁথির বাবা শাহিন ইসলাম বলেন, শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও এখন তিনি এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন—যেখানে ছেলে-মেয়ে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে একসঙ্গে খেলতে পারছে।

মাঠের বাইরে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট। অভিভাবক ও স্থানীয় নেতারা এখন মেয়েদের সক্ষমতা স্বীকার করতে শুরু করেছেন। পরিবারগুলো শিক্ষা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে মেয়েদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির মধ্যে সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে।

টুর্নামেন্ট শেষ হলেও এর বার্তাটি থেকে যাচ্ছে। সমান সুযোগ পেলে মেয়েরা শুধু অংশ নেয় না, নেতৃত্বও দেয়—আর সেই পথ ধরেই ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে সমাজের চেনা কাঠামো।