ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 10

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ আগামী ৯ জুলাই পবিত্র মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা (আ.) মাজারে দাফন করা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে তেহরান। দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে প্রয়াত এই নেতার শেষ বিদায় অনুষ্ঠান, পবিত্র জানাজা এবং দাফন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ও চব্বিশ ঘণ্টার সময়সূচি দেশবাসীকে জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত সরকারি বিবরণী অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই (পবিত্র মুহাররম মাসের ১৯ ও ২০ তারিখ) রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় মরহুম নেতার বিদায়ী ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই দেশটির অন্যতম পবিত্র শহর কোমে তাঁর জানাজা ও বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষ, আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে খামেনির চূড়ান্ত জানাজা সম্পন্ন করা হবে এবং সেখানে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণেই তাঁকে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হবে।

ইরানের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, শেষকৃত্য কমিটির আয়োজকেরা ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ, ইসলামি ভাবধারার অনুসারী এবং ইরান বিষয়ে আগ্রহীদের দেশের শীর্ষ নেতার এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

কমিটির পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খামেনির এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের প্রধান ও মূল চালিকাশক্তি থাকবে সাধারণ জনগণের হাতেই। এই স্মরণসভায় দেশ-বিদেশের মানুষের এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গণজমায়েত প্রত্যাশা করছে ইরান সরকার। তবে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠানের পরবর্তী ও আরও বিস্তারিত তথ্য সময়মতো সংবাদমাধ্যমে পরে জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

স্মরণ করা যেতে পারে যে, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে অবস্থিত নিজের বাসভবনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক আকস্মিক ও যৌথ বর্বরোচিত হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই সময় দুই পরাশক্তি রাষ্ট্র একযোগে ইরানের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী ও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছিল, যে ভয়াবহ যুদ্ধে খামেনির পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারসহ বহু সাধারণ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারান।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক দিন পরই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ ধর্মগুরুর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ এক জরুরি বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রয়াত নেতার পুত্র, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ইরানের প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক বিশেষ সূত্র ধরে এই আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ আগামী ৯ জুলাই পবিত্র মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা (আ.) মাজারে দাফন করা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে তেহরান। দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে প্রয়াত এই নেতার শেষ বিদায় অনুষ্ঠান, পবিত্র জানাজা এবং দাফন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ও চব্বিশ ঘণ্টার সময়সূচি দেশবাসীকে জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত সরকারি বিবরণী অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই (পবিত্র মুহাররম মাসের ১৯ ও ২০ তারিখ) রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় মরহুম নেতার বিদায়ী ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই দেশটির অন্যতম পবিত্র শহর কোমে তাঁর জানাজা ও বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষ, আগামী ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে খামেনির চূড়ান্ত জানাজা সম্পন্ন করা হবে এবং সেখানে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণেই তাঁকে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হবে।

ইরানের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, শেষকৃত্য কমিটির আয়োজকেরা ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ, ইসলামি ভাবধারার অনুসারী এবং ইরান বিষয়ে আগ্রহীদের দেশের শীর্ষ নেতার এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

কমিটির পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খামেনির এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের প্রধান ও মূল চালিকাশক্তি থাকবে সাধারণ জনগণের হাতেই। এই স্মরণসভায় দেশ-বিদেশের মানুষের এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক গণজমায়েত প্রত্যাশা করছে ইরান সরকার। তবে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠানের পরবর্তী ও আরও বিস্তারিত তথ্য সময়মতো সংবাদমাধ্যমে পরে জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

স্মরণ করা যেতে পারে যে, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে অবস্থিত নিজের বাসভবনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক আকস্মিক ও যৌথ বর্বরোচিত হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই সময় দুই পরাশক্তি রাষ্ট্র একযোগে ইরানের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী ও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছিল, যে ভয়াবহ যুদ্ধে খামেনির পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারসহ বহু সাধারণ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারান।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক দিন পরই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ ধর্মগুরুর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ এক জরুরি বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রয়াত নেতার পুত্র, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ইরানের প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক বিশেষ সূত্র ধরে এই আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।