বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য: প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 63
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মূলত দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য। আর ঠিক এই কারণেই আমরা আমাদের এ দেশের পরিশ্রমী কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে দেশব্যাপী বৃহৎ খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি।’
আজ শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পাতলি খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের কৃষক ভাইদের পাশে সরাসরি দাঁড়াতে এবং তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই সরকার এই খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
পথসভায় কৃষকদের ভাগ্যন্নোয়নে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক ভাইদের উন্নত বীজ ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক ওষুধ কেনার জন্য এককালীন ২ হাজার ৫০০ (আড়াই হাজার) টাকা করে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে।
জাতীয় বাজেট ও এর বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে আমরা দেশের কৃষকদের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ রেখেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় আট থেকে প্রায় ১০ হাজার যোগ্য কৃষকের কাছে এই বিশেষ কার্ডের সুবিধা ও অর্থ আমরা সফলভাবে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো।’
উক্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও বক্তব্য রাখেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং কক্সবাজার-৩ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
এর আগে, আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সকাল ১০টার দিকে তিনি বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে বাইরে বের হন। এই সময় সকাল থেকেই ঝুম বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মদ, স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। বৈরী আবহাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই হাজারো মানুষকে হাতে ছাতা নিয়ে, আবার অনেককে ভিজেই প্রিয় নেতার আগমনের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়। বিমানবন্দর সড়ক, হলিডে মোড়, কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও লিংক রোডসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয় বিশেষ নিরাপত্তা চেকপোস্ট। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবাহিনী, সরকারি ভিআইপি অতিথি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া সাধারণ যান চলাচলের ওপর সাময়িক কড়া বিধিনিষেধ ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি গাড়িবহর নিয়ে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী পাতলি খালের মোহনায় পৌঁছান। সেখানে বেলা ১১টার দিকে তিনি খালের পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর খালের পাশে তৈরি বিশেষ মঞ্চে পথসভা শুরু হয়। বেলা সাড় ১১টার দিকে তিনি বক্তব্য শুরু করে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শেষ করেন।
পাতলি খালের কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে প্রধানমন্ত্রী চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ঠিক বেলা ১২টায় সেখানে পৌঁছান। সাফারি পার্কে তিনি ‘সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’-র উদ্বোধন করেন এবং পরবর্তীতে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কটি ঘুরে দেখেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর পেকুয়া উপজেলায় যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের অন্যতম বীর শহীদ মো. ওয়াসিমের পবিত্র কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ ও সান্ত্বনা প্রদান করবেন। দুপুর দেড়টায় তিনি নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। এরপর পেকুয়ায় গিয়ে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন। সেখানে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে পুনরায় চকরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন তিনি।
বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে রাত ৮টায় কক্সবাজারের কলাতলীস্থ অভিজাত ‘লং বিচ হোটেল’-এ স্থানীয় সুধীজন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি।
































