ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদকদের বৈঠকে যা আলোচনা হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 57

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিককে যেন সরাসরি গ্রেফতার করা না হয়—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতারা। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার, প্রেস কাউন্সিলের সংস্কার ও মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মাহমুদুর রহমান বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে পারে, এমনকি কোনো সংবাদকে মিথ্যা দাবি করেও অভিযোগ করা হতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। আদালত প্রয়োজন মনে করলে সমন জারি করতে পারেন, কিন্তু সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের কারণে কাউকে সরাসরি গ্রেফতার করা ঠিক নয়—এমন মত তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন।

বৈঠকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সরকারকে প্রশ্ন করা নয়; বিরোধী দলসহ রাষ্ট্রের সব পক্ষকেই জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য প্রশ্ন করার সুযোগ থাকতে হবে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের আলোচনা ছিল সরাসরি ও খোলামেলা। বাংলাদেশের গণমাধ্যম কীভাবে আরও স্বাধীন ও কার্যকর পরিবেশে কাজ করতে পারে, সেটিই ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়।

তিনি বলেন, অতীতে প্রশ্ন করার কারণে মানুষ ও সাংবাদিকরা নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের প্রশংসায় সীমাবদ্ধ সাংবাদিকতার চর্চাও দেখা গেছে। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রেস কাউন্সিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সেখানে যোগ্য, স্বাধীন ও পেশাদার ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যারা প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন না।

বৈঠকে প্রেস ট্রাস্ট পুনরুজ্জীবনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। মাহমুদুর রহমান বলেন, আগের সরকারের সময়ে চারটি পত্রিকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। টাইমস বাংলা ট্রাস্ট পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক বাংলা ও বিচিত্রাসহ ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি প্রকাশনা আবার চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে অনেক সাংবাদিকের কর্মসংস্থানও হতে পারে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ফৌজদারি অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে এক করে দেখা যাবে না।

মাহমুদুর রহমান আরও জানান, গণমাধ্যম খাতের উন্নয়ন ও নীতিগত পরিবর্তনের জন্য দ্রুত মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক শফিক রেহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদকদের বৈঠকে যা আলোচনা হলো

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিককে যেন সরাসরি গ্রেফতার করা না হয়—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতারা। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার, প্রেস কাউন্সিলের সংস্কার ও মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মাহমুদুর রহমান বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে পারে, এমনকি কোনো সংবাদকে মিথ্যা দাবি করেও অভিযোগ করা হতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। আদালত প্রয়োজন মনে করলে সমন জারি করতে পারেন, কিন্তু সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের কারণে কাউকে সরাসরি গ্রেফতার করা ঠিক নয়—এমন মত তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন।

বৈঠকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সরকারকে প্রশ্ন করা নয়; বিরোধী দলসহ রাষ্ট্রের সব পক্ষকেই জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য প্রশ্ন করার সুযোগ থাকতে হবে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের আলোচনা ছিল সরাসরি ও খোলামেলা। বাংলাদেশের গণমাধ্যম কীভাবে আরও স্বাধীন ও কার্যকর পরিবেশে কাজ করতে পারে, সেটিই ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়।

তিনি বলেন, অতীতে প্রশ্ন করার কারণে মানুষ ও সাংবাদিকরা নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের প্রশংসায় সীমাবদ্ধ সাংবাদিকতার চর্চাও দেখা গেছে। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রেস কাউন্সিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সেখানে যোগ্য, স্বাধীন ও পেশাদার ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যারা প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন না।

বৈঠকে প্রেস ট্রাস্ট পুনরুজ্জীবনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। মাহমুদুর রহমান বলেন, আগের সরকারের সময়ে চারটি পত্রিকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। টাইমস বাংলা ট্রাস্ট পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক বাংলা ও বিচিত্রাসহ ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি প্রকাশনা আবার চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে অনেক সাংবাদিকের কর্মসংস্থানও হতে পারে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ফৌজদারি অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে এক করে দেখা যাবে না।

মাহমুদুর রহমান আরও জানান, গণমাধ্যম খাতের উন্নয়ন ও নীতিগত পরিবর্তনের জন্য দ্রুত মিডিয়া কমিশন গঠনের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক শফিক রেহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।