ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টুথপেস্ট নিয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 94

বাজারে থাকা ২৮টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। এসব পণ্যের মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব জানতে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।

রিটে বাণিজ্য সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালকসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনের ভিত্তি হিসেবে সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডিও)-এর একটি গবেষণা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই গবেষণায় দেশে বাজারজাত ৩৪টি টুথপেস্ট ব্র্যান্ড পরীক্ষা করে ২৮টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ার দাবি করা হয়।

রিটকারী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—উচ্চমূল্যের এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্যবহৃত কিছু টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি সাধারণ পণ্য যদি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে রিটে এখনই কোনো টুথপেস্ট বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়নি বলে জানান আইনজীবী। তিনি বলেন, আগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, তদন্তে কোনো পণ্যের ক্ষতিকর দিক প্রমাণিত হলে পরবর্তী সময়ে সেগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের বিষয়ে আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হবে।

রিট আবেদনটি বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী।

এসডিওর গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, টুথপেস্টে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

টুথপেস্ট নিয়ে হাইকোর্টে রিট

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বাজারে থাকা ২৮টি টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। এসব পণ্যের মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব জানতে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।

রিটে বাণিজ্য সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালকসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনের ভিত্তি হিসেবে সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডিও)-এর একটি গবেষণা প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই গবেষণায় দেশে বাজারজাত ৩৪টি টুথপেস্ট ব্র্যান্ড পরীক্ষা করে ২৮টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ার দাবি করা হয়।

রিটকারী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—উচ্চমূল্যের এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্যবহৃত কিছু টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শিশুদের জন্য বাজারে থাকা ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি সাধারণ পণ্য যদি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে রিটে এখনই কোনো টুথপেস্ট বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়নি বলে জানান আইনজীবী। তিনি বলেন, আগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ের আবেদন করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, তদন্তে কোনো পণ্যের ক্ষতিকর দিক প্রমাণিত হলে পরবর্তী সময়ে সেগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের বিষয়ে আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হবে।

রিট আবেদনটি বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী।

এসডিওর গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, টুথপেস্টে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।