মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন
জুলাইয়ে নির্যাতনের শিকার ২৯৯ নারী ও শিশু
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 12
দেশে গত জুলাই মাসে মোট ২৯৯ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬১ জন নারী এবং ১৩৮ জন কন্যাশিশু রয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসে ৭৫ জন নারী ও কন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন কন্যা এবং ৩০ জন নারী। এ ছাড়া ১০ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে চারজন কন্যাশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ছয়জনকে, যাদের মধ্যে দুইজন কন্যা। ধর্ষণের কারণে এক কন্যাশিশু আত্মহত্যা করেছে। একই সময়ে ৩৫ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনই কন্যা।
যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২৪ জন। তাদের মধ্যে ১৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, দুজন উত্ত্যক্তের শিকার এবং উত্ত্যক্তের জেরে দুইজন আত্মহত্যা করেছেন, যাদের একজন কন্যাশিশু। এছাড়া ছয়জন সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ঘটনায় ৫০ জন নারী ও কন্যা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৯ জন নারী ও ১১ জন কন্যা। হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন আরও দুজন। রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৩০ জনের, যার মধ্যে পাঁচজন কন্যা ও ২৫ জন নারী।
এ ছাড়া ২২ জন আত্মহত্যা করেছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন কন্যাশিশু। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ রয়েছে ছয়টি ঘটনায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
যৌতুক-সংক্রান্ত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নয়জন নারী। এর মধ্যে তিনজনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন চারজন এবং একজন গৃহকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন।
অপহরণের শিকার হয়েছেন ১০ জন, যাদের মধ্যে ছয়জন কন্যা। অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে আরও পাঁচজনকে। এছাড়া ১৭ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন কন্যা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জুলাই মাসে একটি বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয়েছে এবং পাঁচটি বাল্যবিবাহের চেষ্টা প্রতিরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আটজন নারী ও কন্যা অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।































