সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আট দফা দাবি
ছয় মাসে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিহত ৪৪ জন
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / 107
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অন্তত ২৫৭টি ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশীয় সংবাদপত্র, বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সংগঠনের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে সারা দেশে অন্তত ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এগুলো প্রকৃত ঘটনার আংশিক চিত্রমাত্র বলেও দাবি করেন তিনি।
সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৪০টি ঘটনায় মোট ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৬২টি ঘটনা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের পাঁচটি, উপাসনালয়ের জমি দখল বা দখলের চেষ্টার ১৫টি, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৪৭টি, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের ১০টি, হামলা, হত্যার হুমকি ও নির্যাতনের ৪২টি এবং জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের ২১টি ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, কক্সবাজার ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার কয়েকটি আলোচিত ঘটনার উল্লেখ করে সংগঠনটি দাবি করে, এসব ঘটনায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এ সময় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রামমূর্তি-সংক্রান্ত ঘটনায় আলোচনায় থাকা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করা হয়। সংগঠনটির দাবি, এ গ্রেপ্তার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। তারা তার দ্রুত মুক্তির পাশাপাশি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তিও দাবি করেন।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, বিগত সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিকার বর্তমান সরকারেও দৃশ্যমান নয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন, দেবোত্তর সম্পত্তি সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা।
সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য উত্থাপন করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ। উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, রঞ্জন কর্মকার, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু প্রমুখ।




























