ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ ইরানে বিস্ফোরণের পর তেহরানের নতুন হামলা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 43

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ৮ ও ৯ জুলাইয়ের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইরান জানিয়েছে, দেশটির কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাল্টা জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো হামলা ছিল ‘চুক্তিভঙ্গকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অভিযানের প্রথম ধাপ’।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘জঘন্য যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, এতে রেলসেতু ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান থেকে মাশহাদগামী গুরুত্বপূর্ণ রেলপথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তারা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতারও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বুঝতে পারেনি যে ‘হুমকি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা হামলা চালালে তার জবাব পেতেই হবে।’ একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ইরানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরবরাহ অবকাঠামোসহ ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযান বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দক্ষিণ ইরানে বিস্ফোরণের পর তেহরানের নতুন হামলা

সর্বশেষ আপডেট ১০:২২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ৮ ও ৯ জুলাইয়ের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইরান জানিয়েছে, দেশটির কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাল্টা জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো হামলা ছিল ‘চুক্তিভঙ্গকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অভিযানের প্রথম ধাপ’।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘জঘন্য যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, এতে রেলসেতু ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান থেকে মাশহাদগামী গুরুত্বপূর্ণ রেলপথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তারা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতারও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বুঝতে পারেনি যে ‘হুমকি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মূল্য দিতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা হামলা চালালে তার জবাব পেতেই হবে।’ একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ইরানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরবরাহ অবকাঠামোসহ ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযান বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।