হাসপাতাল বন্ধ হোক আমরা চাই না: মৃত শিশুর বাবা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 8
রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দিলে লাইসেন্স বাতিলের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের পক্ষে এই আইনি দাবি তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মারা যাওয়া এক শিশুর বাবা হাবিবুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা চাই যে প্রকৃত দোষী তারই শাস্তি হোক, কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ হোক আমরা চাই না।”
সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সেটার যথাযথ জবাব আগামীকাল রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রদান করা হবে। তবে জবাব সন্তোষজনক না হলে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হবে না— নোটিশে এমন জানতে চাওয়াকে তিনি সম্পূর্ণ বেআইনি বলে আখ্যা দেন।
এ সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সারমর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওই ওয়ার্ডে অক্সিজেনের মাত্রা আসলে কতটুকু ছিল এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড কী পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল, সেটার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য রিপোর্টে নেই। এমনকি ঠিক কতটুকু অক্সিজেন থাকলে শিশুর মৃত্যু ঘটত না, সে বিষয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় পুরো তদন্তে চরম অস্পষ্টতা থেকে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মৃত শিশুর বাবা হাবিবুর রহমান নিজের মানবিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, এর আগেও তাঁর আরও দুই সন্তানের জন্ম এই হাসপাতালেই হয়েছিল এবং তারা সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থাতেই ছিল। তাই প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে সুনির্দিষ্ট গাফিলতির সুষ্ঠু বিচার চান তিনি। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সকল ভুক্তভোগী পরিবারের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলন থেকে একটি বড় ঘোষণা দেওয়া হয়। নবজাতক হারানোর বেদনাদায়ক এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি এবং উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ।

































