সরকারের বিভিন্ন প্রকৌশল দপ্তরের জন্য আলাদা আলাদা রেট শিডিউল আর থাকবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সব প্রকৌশল বিভাগের জন্য একটি অভিন্ন রেট শিডিউল চালু করতে হবে।
সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় বুধবার তিনি এ নির্দেশ দেন। সভায় প্রায় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।
বর্তমানে গণপূর্ত, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর আলাদা আলাদা রেট কাঠামো অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তে একক রেট কাঠামো চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও সমন্বিত হয়।
একনেক সভায় তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়মতো কাজ শেষ করার পাশাপাশি ব্যয় সাশ্রয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন।
এদিকে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা, যা জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ সময়সীমায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এ উদ্যোগকে ঘিরে পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।
সভায় উপস্থিত একাধিক প্রতিনিধি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি সংকট, কৃষি উৎপাদন ও নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
একনেকে আরও অনুমোদন পেয়েছে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স, গণগ্রন্থাগার ভবন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র উন্নয়ন, হাইটেক সিটি-২ অবকাঠামো, শিশু পরিবার ও নিবাস পুনর্নির্মাণ, সাভার সেনানিবাসে ব্যারাক নির্মাণ, চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড এবং ময়মনসিংহ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পসহ মোট ৯টি উন্নয়ন উদ্যোগ।