ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য নতুন উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • / 177

চুক্তি স্বাক্ষর করেন জাপান সরকার ও ইউনিসেফের প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসান চরে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা জোরদারে নতুন অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে জাপান সরকার ও ইউনিসেফ। এ লক্ষ্যে ১৪ লাখ মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি সই হয়েছে, যার মাধ্যমে ৩৬ হাজারের বেশি শিশুসহ মোট ৫৬ হাজার ৫০০ শরণার্থী জরুরি সেবা পাবে।

চুক্তি অনুযায়ী, এই অর্থ দিয়ে শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশন (ওয়াশ), পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক তহবিল সংকটের এই সময়ে সহায়তাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ইউনিসেফের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব মানবিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠী- উভয়ের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, শরণার্থী শিবিরে প্রতিদিনই শিশুরা নানা ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে- রোগ, অপুষ্টি ও শিক্ষাবিচ্ছিন্নতা তার মধ্যে অন্যতম। এই সহায়তা শিশুদের সুস্থ রাখা, শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা এবং পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

রোহিঙ্গা সংকট নবম বছরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এবং এটি এখনও বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটগুলোর একটি। ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অপুষ্টি ও সীমিত শিক্ষাসুযোগ শিশুদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে। এমন প্রেক্ষাপটে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কলেরা, ডেঙ্গুসহ সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোকে সাবান, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে। ভাসান চরে নবজাতক সেবাকেন্দ্র এবং কক্সবাজারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

শিক্ষা খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভাসান চরে মিয়ানমারের পাঠক্রম অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা এবং কক্সবাজারে কিশোর-কিশোরীদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চালু রাখতে সহায়তা করবে ইউনিসেফ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু শিশুদের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করবে না, বরং তাদের মর্যাদা, সহনশীলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও শক্তিশালী করবে। তহবিল সংকটের এই সময়ে জাপান ও ইউনিসেফের অংশীদারিত্ব রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য নতুন উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসান চরে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা জোরদারে নতুন অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে জাপান সরকার ও ইউনিসেফ। এ লক্ষ্যে ১৪ লাখ মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি সই হয়েছে, যার মাধ্যমে ৩৬ হাজারের বেশি শিশুসহ মোট ৫৬ হাজার ৫০০ শরণার্থী জরুরি সেবা পাবে।

চুক্তি অনুযায়ী, এই অর্থ দিয়ে শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশন (ওয়াশ), পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক তহবিল সংকটের এই সময়ে সহায়তাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ইউনিসেফের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব মানবিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সহায়তা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠী- উভয়ের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, শরণার্থী শিবিরে প্রতিদিনই শিশুরা নানা ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে- রোগ, অপুষ্টি ও শিক্ষাবিচ্ছিন্নতা তার মধ্যে অন্যতম। এই সহায়তা শিশুদের সুস্থ রাখা, শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা এবং পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

রোহিঙ্গা সংকট নবম বছরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এবং এটি এখনও বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটগুলোর একটি। ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অপুষ্টি ও সীমিত শিক্ষাসুযোগ শিশুদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে। এমন প্রেক্ষাপটে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কলেরা, ডেঙ্গুসহ সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোকে সাবান, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে। ভাসান চরে নবজাতক সেবাকেন্দ্র এবং কক্সবাজারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

শিক্ষা খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভাসান চরে মিয়ানমারের পাঠক্রম অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা এবং কক্সবাজারে কিশোর-কিশোরীদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চালু রাখতে সহায়তা করবে ইউনিসেফ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু শিশুদের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করবে না, বরং তাদের মর্যাদা, সহনশীলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেও শক্তিশালী করবে। তহবিল সংকটের এই সময়ে জাপান ও ইউনিসেফের অংশীদারিত্ব রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।