ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেদিন রাস্তায় নামব, সেদিন লাঠি-বন্দুকও কিছু করতে পারবে না: কাদের সিদ্দিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 133

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

টাঙ্গাইল শহরে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ঘিরে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেদিন আমরা রাস্তায় নামব, সেদিন লাঠি না বন্দুকও কিছু করতে পারবে না।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কবি নজরুল সরণিতে নিজ বাসভবনের সামনে ‘কাদেরিয়া বাহিনীর’ মুক্তিযোদ্ধাদের জরুরি সমাবেশ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আমি অবাক হয়েছি মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করতে হলো। এটা তো এক ধরনের রেকর্ড। মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হবে, অথচ তাদের মিটিং ১৪৪ ধারার মাধ্যমে বন্ধ করা হলো—এটা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বাসায় আক্রমণ করা হয়েছে। এটা যদি সম্ভব হয়, তাহলে দেশের যেকোনো মানুষের বাসায় আক্রমণ সম্ভব। দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা খুবই শোচনীয়।”

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, “দেশ যদি পাকিস্তান হয়ে যেত, আমি পাকিস্তান ভেঙেছিলাম, তাহলে আইনানুগ আমার ফাঁসি হতো। তাতে আমার কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু এখন দেশে আইনশৃঙ্খলা নেই।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যারা চব্বিশে বিজয়ী হয়েছে তারা যদি ব্যর্থ হয়, ভবিষ্যতে যদি কেউ স্বৈরাচার হয়, তখন সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়াবে না।”

সরকারের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “শেখ হাসিনার পতন আর মুক্তিযুদ্ধের পতন এক নয়। শেখ হাসিনার পতন আর বঙ্গবন্ধুর পতন এক নয়। শেখ হাসিনার পতন মানেই স্বাধীনতার পতন নয়। এই সত্য কেউ কেউ বুঝতে চাচ্ছেন না।”

এর আগে রোববার মধ্যরাতে টাঙ্গাইল শহরে বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত এ মুক্তিযোদ্ধার বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা বিকেলে জরুরি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে কাদের সিদ্দিকী ও মুক্তিযোদ্ধারা বাসভবনের নিচতলায় সমাবেশ করেন। সমাবেশে কাদের সিদ্দিকীর পাশাপাশি যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল, ফজলুল হক বীর প্রতীক, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সখিপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সজীব এবং বাসাইল উপজেলা শাখার সভাপতি রাহাত হাসান টিপু বক্তব্য দেন।

এর আগে রোববার বিকালে বাসাইল উপজেলায় কাদেরিয়া বাহিনী ও ছাত্র সমাজের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সারাদিন মাঠে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কেউই শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ করেননি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যেদিন রাস্তায় নামব, সেদিন লাঠি-বন্দুকও কিছু করতে পারবে না: কাদের সিদ্দিকী

সর্বশেষ আপডেট ০৯:১৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

টাঙ্গাইল শহরে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ঘিরে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেদিন আমরা রাস্তায় নামব, সেদিন লাঠি না বন্দুকও কিছু করতে পারবে না।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কবি নজরুল সরণিতে নিজ বাসভবনের সামনে ‘কাদেরিয়া বাহিনীর’ মুক্তিযোদ্ধাদের জরুরি সমাবেশ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আমি অবাক হয়েছি মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করতে হলো। এটা তো এক ধরনের রেকর্ড। মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হবে, অথচ তাদের মিটিং ১৪৪ ধারার মাধ্যমে বন্ধ করা হলো—এটা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বাসায় আক্রমণ করা হয়েছে। এটা যদি সম্ভব হয়, তাহলে দেশের যেকোনো মানুষের বাসায় আক্রমণ সম্ভব। দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা খুবই শোচনীয়।”

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, “দেশ যদি পাকিস্তান হয়ে যেত, আমি পাকিস্তান ভেঙেছিলাম, তাহলে আইনানুগ আমার ফাঁসি হতো। তাতে আমার কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু এখন দেশে আইনশৃঙ্খলা নেই।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যারা চব্বিশে বিজয়ী হয়েছে তারা যদি ব্যর্থ হয়, ভবিষ্যতে যদি কেউ স্বৈরাচার হয়, তখন সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়াবে না।”

সরকারের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “শেখ হাসিনার পতন আর মুক্তিযুদ্ধের পতন এক নয়। শেখ হাসিনার পতন আর বঙ্গবন্ধুর পতন এক নয়। শেখ হাসিনার পতন মানেই স্বাধীনতার পতন নয়। এই সত্য কেউ কেউ বুঝতে চাচ্ছেন না।”

এর আগে রোববার মধ্যরাতে টাঙ্গাইল শহরে বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত এ মুক্তিযোদ্ধার বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা বিকেলে জরুরি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে কাদের সিদ্দিকী ও মুক্তিযোদ্ধারা বাসভবনের নিচতলায় সমাবেশ করেন। সমাবেশে কাদের সিদ্দিকীর পাশাপাশি যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল, ফজলুল হক বীর প্রতীক, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সখিপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সজীব এবং বাসাইল উপজেলা শাখার সভাপতি রাহাত হাসান টিপু বক্তব্য দেন।

এর আগে রোববার বিকালে বাসাইল উপজেলায় কাদেরিয়া বাহিনী ও ছাত্র সমাজের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সারাদিন মাঠে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কেউই শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ করেননি।