ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে আইন পাসের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / 137

নবনিযুক্ত কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনায় বিশিষ্ট নাগরিকরা। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ- ২০২৫ অপরিবর্তিত রেখে সংসদে পাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কমিশনের সম্মেলনকক্ষে নবনিযুক্ত কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনায় তারা এই আহবান জানান।

এ সময় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অধ্যাদেশটি কমিশনকে মানবাধিকার সুরক্ষায় পর্যাপ্ত এখতিয়ার দিয়েছে। তাই এটি অপরিবর্তিত রেখে আইন আকারে পরিণত হওয়া উচিত।

তিনি আরও জানান, বর্তমান কমিশনের ওপর নাগরিক সমাজের আস্থা রয়েছে এবং তারা নারী, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার প্রদানের জন্য কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ কর্মকৌশল প্রণয়নের পরামর্শও দিয়েছেন।

সিপিডির ফেলো ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান কমিশনারদের সঙ্গে পূর্ব অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। আমরা চাই, অধ্যাদেশ ও বর্তমান কমিশনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কমিশন শিরদাঁড়া সোজা রেখে দায়িত্বপূর্ণভাবে কাজ করবে এবং অধ্যাদেশ হুবহু আইন আকারে পাশ হওয়া উচিত।

নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, নাগরিক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তারা চাইছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘বি’ স্ট্যাটাস থেকে ‘এ’ স্ট্যাটাসে উন্নীত হোক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধ্যাদেশটি শক্তিশালী হলে কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

এএলআরডি-এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, অধ্যাদেশে কিছু ত্রুটি থাকলেও এটি সংসদে অবিকৃতভাবে পাশ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমরা চাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সক্রিয় ও সচলভাবে কাজ করুক।

কমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান কমিশনাররা আইন অনুমতি অনুযায়ী আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, “একটি কার্যকর, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার কমিশন দেশের স্বার্থ, রাষ্ট্রের স্বার্থ এবং নাগরিকের নিরাপত্তার প্রশ্ন। শক্তিশালী আইন, স্বাধীন কাঠামো ও বিশ্বাসযোগ্য প্রয়োগ নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ অচিরেই ‘এ’ স্ট্যাটাস অর্জন করতে পারবে।”

সভায় অংশগ্রহণকারী নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কমিশনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন কমিশনার ডঃ নাবিলা ইদ্রিস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমিশনার মোঃ নূর খান, অধ্যাপক মোঃ শরীফুল ইসলাম, ইলিরা দেওয়ান, জাকির হোসেন, দিপায়ন খীসা, মাবরুক মোহাম্মদ, ফাল্গুনী ত্রিপুরা, অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজী, মাধব চন্দ্র দত্তসহ অন্যান্য নাগরিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে আইন পাসের দাবি

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ- ২০২৫ অপরিবর্তিত রেখে সংসদে পাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কমিশনের সম্মেলনকক্ষে নবনিযুক্ত কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনায় তারা এই আহবান জানান।

এ সময় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অধ্যাদেশটি কমিশনকে মানবাধিকার সুরক্ষায় পর্যাপ্ত এখতিয়ার দিয়েছে। তাই এটি অপরিবর্তিত রেখে আইন আকারে পরিণত হওয়া উচিত।

তিনি আরও জানান, বর্তমান কমিশনের ওপর নাগরিক সমাজের আস্থা রয়েছে এবং তারা নারী, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার প্রদানের জন্য কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ কর্মকৌশল প্রণয়নের পরামর্শও দিয়েছেন।

সিপিডির ফেলো ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান কমিশনারদের সঙ্গে পূর্ব অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। আমরা চাই, অধ্যাদেশ ও বর্তমান কমিশনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কমিশন শিরদাঁড়া সোজা রেখে দায়িত্বপূর্ণভাবে কাজ করবে এবং অধ্যাদেশ হুবহু আইন আকারে পাশ হওয়া উচিত।

নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, নাগরিক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তারা চাইছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘বি’ স্ট্যাটাস থেকে ‘এ’ স্ট্যাটাসে উন্নীত হোক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধ্যাদেশটি শক্তিশালী হলে কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

এএলআরডি-এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, অধ্যাদেশে কিছু ত্রুটি থাকলেও এটি সংসদে অবিকৃতভাবে পাশ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমরা চাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সক্রিয় ও সচলভাবে কাজ করুক।

কমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান কমিশনাররা আইন অনুমতি অনুযায়ী আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, “একটি কার্যকর, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার কমিশন দেশের স্বার্থ, রাষ্ট্রের স্বার্থ এবং নাগরিকের নিরাপত্তার প্রশ্ন। শক্তিশালী আইন, স্বাধীন কাঠামো ও বিশ্বাসযোগ্য প্রয়োগ নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ অচিরেই ‘এ’ স্ট্যাটাস অর্জন করতে পারবে।”

সভায় অংশগ্রহণকারী নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কমিশনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারপার্সন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন কমিশনার ডঃ নাবিলা ইদ্রিস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমিশনার মোঃ নূর খান, অধ্যাপক মোঃ শরীফুল ইসলাম, ইলিরা দেওয়ান, জাকির হোসেন, দিপায়ন খীসা, মাবরুক মোহাম্মদ, ফাল্গুনী ত্রিপুরা, অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজী, মাধব চন্দ্র দত্তসহ অন্যান্য নাগরিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।