বাথরুমে রামিসার মাথা, চিৎকার করে বের হয় বোন
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 10
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে আদালতে তুলে ধরা হয়েছে তার বড় বোন রাইসা আক্তারের সাক্ষ্য। সাক্ষ্যে তিনি জানান, বাথরুমে বোনের কাটা মাথা দেখে তিনি চিৎকার করে বাইরে চলে যান।
ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে উপস্থিত রেখে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু শুনানিতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ তুলে ধরে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরা ট্রায়ালে দেওয়া রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের সাক্ষ্য আদালতে পাঠ করেন।
সাক্ষ্যে রাইসা বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি চাচার বাসায় গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলে মা জানতে চান রামিসা কোথায়। তিনি জানান, রামিসা তার সঙ্গে যায়নি। পরে ধারণা করা হয়, সে নিচে বিড়াল নিয়ে খেলতে গেছে।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোহেল রানার বাসার সামনে রামিসার জুতা পাওয়া যায়। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
রাইসার ভাষ্য, “বাথরুমে আমার বোনের কাটা মাথা দেখে আমি চিৎকার দিয়ে বাইরে চলে আসি।” পরে তিনি জানতে পারেন, সোহেল রানা তার বোনকে ধর্ষণ করেছে।
শুনানিতে অন্য সাক্ষীদের বক্তব্যও উপস্থাপন করা হয়। এ সময় অসুস্থ বোধ করলে স্বপ্না আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টা ২ মিনিটের দিকে স্বপ্না আক্তার সোহেল রানার দিকে তেড়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা দেন। তখন বিচারক দুজনকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যুক্তিতর্ক শুনতে হবে, অন্যথায় হাজতখানায় পাঠানো হবে। এ সময় স্বপ্না কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এর আগে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তারসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ উঠে আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার বাবা-মা সোহেল রানার বাসার সামনে একটি স্যান্ডেল দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২০ মে আদালতে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।































