প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 43
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। গ্রুপ পর্বের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আফ্রিকান পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব অর্থাৎ শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কানাডিয়ানরা। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে আনন্দের জোয়ার বইছে কানাডা শিবিরে, অন্যদিকে টুর্নামেন্ট থেকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ও গতিময় ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসেছিল কানাডা। তারা দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে গোলমুখে মোট ১২টি জোরালো শট নেয়, যার মধ্যে সাতটিই ছিল অন-টার্গেট বা লক্ষ্যভেদী। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস পুরো ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে একে একে ছয়টি নিশ্চিত গোল রুখে দেন। তবে কানাডার লাগাতার আক্রমণের মুখে সপ্তমবার আর দলকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি। ম্যাচের শেষদিকের সেই মহাকাব্যিক গোলেই নিশ্চিত হয় কানাডার ঐতিহাসিক জয়।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার নিয়ে মাত্র তৃতীয়বারের মতো অংশ নিচ্ছে কানাডা। এর আগের দুটি আসরেই দলটিকে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে না পেরে শূন্য হাতে বিদায় নিতে হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের এই আসরে তারা শুধু গ্রুপ পর্বের বাঁধাই পেরোয়নি, মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের জাত চিনিয়ে প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলোর টিকিট কেটে ফুটবল বিশ্বে নিজেদের নতুন পরাশক্তি হিসেবে জানান দিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই রক্ষণাত্মক ও কৌশলী ফুটবল খেলায় গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায়। দ্বিতীয়াবেধ নেমে আক্রমণের ধার বাড়ায় কানাডা। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে কানাডার তারকা স্ট্রাইকার জোনাথন ডেভিডের একটি নিশ্চিত গোলমুখী জোরালো শট পা বাড়িয়ে দারুণভাবে রুখে দেন প্রোটিয়া কিপার উইলিয়ামস। ফিরতি বল থেকে জটলার মধ্যে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন এমবোকাজি।
ম্যাচের প্রথম ডিহাইড্রেশন বিরতি (Dehydration Break) পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৫ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রেখে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখলেও, প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে আক্রমণে অনেক বেশি কার্যকর ও ধারালো ছিল কানাডাই। শেষ পর্যন্ত সেই আক্রমণাত্মক কৌশলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই তারা আদায় করে নেয় স্মরণীয় এই জয়।





































