টিআইবির বিবৃতি
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কর্তৃত্ববাদী আমলের চর্চা
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 6
নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন ও ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের আচরণ পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের ‘শুট দ্য মেসেঞ্জার’ সংস্কৃতির প্রতিফলন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এ প্রতিক্রিয়া জানায়।
সংস্থাটি বলেছে, জনস্বার্থে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু বিষয়টির সরাসরি ব্যাখ্যা না দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ‘কে নিউজ করছে’ বা ‘কার এত জ্বালা’, এ ধরনের পাল্টা প্রশ্ন করেছেন। টিআইবির মতে, এতে মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য নন এমন কাউকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে হলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হয়। অন্যদিকে, সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদে বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা ওই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি সংবিধানের ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। তাই প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের সময় তার বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ও প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।
ইফতেখারুজ্জামানের ভাষ্য, একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় পদধারীর কাছে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রশ্নের সরাসরি ও তথ্যভিত্তিক উত্তর প্রত্যাশিত। প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা অনৈতিক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক।
টিআইবি বলছে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া সংবাদকর্মীদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘চিলিং ইফেক্ট’ তৈরি করতে পারে। ফলে অস্বস্তিকর বিষয়ে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে জনগণের তথ্য জানার অধিকার।
সংস্থাটি অবিলম্বে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রকৃত অবস্থা ও তার নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতা সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্য কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সমমর্যাদার কর্মকর্তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তাদের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার সঙ্গে তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।



































