রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মুখ খুূললেন শামা ওবায়েদ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 29
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের সময় যেন ১০ বছর পেরিয়ে ২০ বছরে না গড়ায়। নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছরে: মানবিক সহায়তা থেকে টেকসই সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) ও অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের জন্ম মিয়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও জটিল হয়েছে। এরপরও দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানবিক উদারতাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার কারণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বাংলাদেশ আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের তৈরি নয় এমন একটি সংকটের একক সমাধান তার পক্ষে সম্ভব নয়।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অর্থায়ন কমলেও মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়ছে। ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের পরিসর কমানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংকট কম দৃশ্যমান হলেও এর গুরুত্ব কমেনি।
রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপরও গুরুত্ব দেন শামা ওবায়েদ। ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশুদের তথ্যসহ ২০১৭ সালের পর মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্বাসযোগ্য যাচাই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের পাশাপাশি জাতিসংঘ, আঞ্চলিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ।
আগের সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেও রোহিঙ্গাদের নিজ ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘১০ বছর যেন ২০ বছরে পরিণত না হয়।’ রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরতে পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইনসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।






























