ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ৫৬৬ কার্যালয় তামাকমুক্ত ঘোষণা

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 184

পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ৫৬৬ কার্যালয় তামাকমুক্ত ঘোষণা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) প্রধান কার্যালয়সহ দেশের ৫৬৬টি কার্যালয়কে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সকল কার্যালয়কে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন বোর্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) একেএম তারেক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। একইভাবে জর্দা, গুল, সাদাপাতাসহ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যও মুখগহ্বরের ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

তিনি জানান, এখন থেকে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সব কার্যালয় প্রাঙ্গণে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, সাদাপাতাসহ সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রি ও প্রচার নিষিদ্ধ থাকবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের এ পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ডব্লিউবির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

মূল প্রবন্ধে ডব্লিউবির তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা বলেন, গ্যাটস ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কর্মক্ষেত্র, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে প্রায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন। এ ছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী ৬১ হাজারের বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানজনিত রোগে ভুগছে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে তামাক ব্যবহারের কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্যহানি ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে পাওয়া রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

সভাপতির বক্তব্যে বোর্ডের পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ ইকবাল হুসাইন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বদ্ধপরিকর। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা প্রায় ৫৬৬টি কার্যালয়ে কর্মরত প্রায় ১২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৩ কোটি সেবাগ্রহীতা এ উদ্যোগের মাধ্যমে তামাক ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন।

তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তামাক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদী।

মতবিনিময় সভা শেষে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারবিরোধী গণবিজ্ঞপ্তি, সাইনবোর্ড ও স্টিকার স্থাপন করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ৫৬৬ কার্যালয় তামাকমুক্ত ঘোষণা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) প্রধান কার্যালয়সহ দেশের ৫৬৬টি কার্যালয়কে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সকল কার্যালয়কে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন বোর্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) একেএম তারেক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। একইভাবে জর্দা, গুল, সাদাপাতাসহ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যও মুখগহ্বরের ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

তিনি জানান, এখন থেকে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সব কার্যালয় প্রাঙ্গণে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, সাদাপাতাসহ সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রি ও প্রচার নিষিদ্ধ থাকবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের এ পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ডব্লিউবির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

মূল প্রবন্ধে ডব্লিউবির তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা বলেন, গ্যাটস ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কর্মক্ষেত্র, জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে প্রায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন। এ ছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী ৬১ হাজারের বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানজনিত রোগে ভুগছে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে তামাক ব্যবহারের কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্যহানি ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে পাওয়া রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি।

সভাপতির বক্তব্যে বোর্ডের পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ ইকবাল হুসাইন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বদ্ধপরিকর। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা প্রায় ৫৬৬টি কার্যালয়ে কর্মরত প্রায় ১২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৩ কোটি সেবাগ্রহীতা এ উদ্যোগের মাধ্যমে তামাক ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন।

তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তামাক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদী।

মতবিনিময় সভা শেষে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারবিরোধী গণবিজ্ঞপ্তি, সাইনবোর্ড ও স্টিকার স্থাপন করা হয়।