আয় বাড়াতে মেট্রোরেল স্টেশনে দোকান-বিজ্ঞাপন
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 4
মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়িয়ে নিজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্টেশনে ফুড ভেন্ডিং মেশিন ও রিটেইল শপ স্থাপনের পাশাপাশি ট্রেনের ভেতর-বাইরে বিজ্ঞাপনের পরিসরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমটিসিএলের একাধিক দরপত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি ভাড়া, নিরাপত্তা, যাত্রী চলাচল, দোকান বরাদ্দ ও বিজ্ঞাপন নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্নও উঠেছে।
স্টেশনে বসবে ফুড ভেন্ডিং মেশিন
মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোর কনকোর্স এলাকার নন-পেইড জোনে ফুড ভেন্ডিং মেশিন বসাতে দরপত্র আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএল। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশন থাকলেও কোন স্টেশনে কতটি মেশিন বসানো হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এ উদ্যোগ নিয়ে ডিএমটিসিএলের একাধিক বোর্ড সভায় আপত্তিও উঠেছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, আগের বছরের ভাড়ার ওপর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এ ধরনের শর্ত উদ্যোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
একজন বোর্ড সদস্য বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ উদ্যোক্তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া ভেন্ডিং মেশিনে বিক্রি হওয়া খাবারের মান, দাম, বিদ্যুৎ বিল, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কার—এসব বিষয়েও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৪ স্টেশনে ৩১ রিটেইল শপ
আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার স্টেশন বাদ দিয়ে বাকি ১৪টি স্টেশনে ৩১টি রিটেইল শপ ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এই দুই স্টেশন কেন তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
কোন স্টেশনে কতটি দোকান থাকবে, দোকানের আয়তন ও ধরন, ভিত্তিমূল্য এবং বরাদ্দের শর্তসহ বিভিন্ন বিষয় ব্যবসায়ীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে দরপত্রে কতটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবং দোকানগুলো কবে বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে তথ্যও এখনো স্পষ্ট নয়।
বাড়ছে বিজ্ঞাপনের সুযোগ
রাজস্ব বৃদ্ধির আরেকটি উদ্যোগ হিসেবে মেট্রোরেল ট্রেন ও স্টেশনগুলোতে বিজ্ঞাপনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২৪ সেট ট্রেনের প্রতিটিতে ৬০টি আলোকিত মনিটর এবং প্রায় ২৮০টি আলোহীন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি ট্রেনের ভেতরে প্রায় ১০৫ দশমিক ৪৩ বর্গমিটার জায়গায় আলোহীন বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যাত্রীদের চলাচল বা নিরাপত্তায় কোনো ধরনের সমস্যা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন ইজারায় অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানের আগের বছরের টার্নওভার কমপক্ষে এক কোটি টাকা এবং বিজ্ঞাপন খাতে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক বছরের ভাড়া এককালীন অগ্রিম দেওয়ার শর্তও রয়েছে।
তবে বিজ্ঞাপন ইজারার মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ দরদাতা বাছাইয়ের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
জবাব মেলেনি ডিএমটিসিএলের
এসব বিষয়ে ডিএমটিসিএলের কাছে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম ও পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. আফতাবুজ্জামানের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফীও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা জানিয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে মেট্রোরেলের নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও চলাচলের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ভাড়া ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোরও স্পষ্ট সমাধান প্রয়োজন।



































