লোডশেডিংয়ে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছের মৃত্যু
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 59
যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনামুখো বিলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে ঘেরে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে। ঘের মালিকদের দাবি, এতে তাদের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে মাছের মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকালে পানির ওপর পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে ওঠে।
ঘের মালিকদের ভাষ্য, দিনে-রাতে ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে মাছ মারা যেতে শুরু করে। পরে বৈরী আবহাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এ এফ মৎস্য খামারের মালিক আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন জানান, প্রায় ২০০ বিঘা আয়তনের ঘেরে ৬০ লাখ পিস পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। তাদের হিসাবে, ১৫টি পাবদা মাছের ওজন প্রায় এক কেজি হওয়ায় মোট উৎপাদন প্রায় ১০ হাজার মণ। প্রতি মণ মাছের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা ধরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা।
খামার মালিকরা জানান, মাছগুলো বাজারজাতের পাশাপাশি ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। ফলে মাছের মড়কে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আলফাজুল হক বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মাছের খাদ্য বাবদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল বাকিতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সেই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
অন্য মালিক ফারুক হোসেন বলেন, এই খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল। রাত ১টার পর বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং ভোর হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়।
খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদিত পাবদার একটি অংশ রপ্তানির মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে এ খামারের মাছ চাষ স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখে।
তাদের অভিযোগ, মাছ মারা যাওয়ার পরও শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় মৎস্যচাষিরাও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মনজুরুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।






























