ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সহযোগিতায় বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক এগোবে

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 154

সহযোগিতায় বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক এগোবে

চলমান সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুঙ (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ সিরিজের তৃতীয় পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্ক, একাডেমিক সহযোগিতা, তরুণদের অংশগ্রহণ, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক ক্রমেই কৌশলগত ও রাজনৈতিক সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। টেকসই সম্পর্ক নির্ভরতার ভিত্তিতে নয়, বরং সহযোগিতা, জোট ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। বাণিজ্য, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং উন্মুক্ত নাগরিক পরিসর নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যেতে পারে। একটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য আইনের শাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকর্ষণেও সহায়ক।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সবুজ রূপান্তরের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাইকেল মিলার বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক ভূমিকা পালন করছে, তা প্রশংসনীয়। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সংকটটির স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুঙ বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেদেস বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংহতির জন্য সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে অর্থবহ মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; এটি এমন একটি পরিসর যেখানে চিন্তাকে প্রশ্ন করা হয়, দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত হয় এবং তরুণরা আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বকে বোঝার সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন ও মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো শুধু কূটনীতির বিষয় নয়, এগুলো তরুণদের জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই শিক্ষার্থী ও কূটনীতিকদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, সাধারণত কূটনৈতিক যোগাযোগ সমাজের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ উদ্যোগের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও বন্ধ দরজার বৈঠকের বাইরে কূটনীতিকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে আসাই এ সিরিজের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফইএস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সাধন কুমার দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সহযোগিতায় বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক এগোবে

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

চলমান সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুঙ (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ সিরিজের তৃতীয় পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্ক, একাডেমিক সহযোগিতা, তরুণদের অংশগ্রহণ, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক ক্রমেই কৌশলগত ও রাজনৈতিক সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। টেকসই সম্পর্ক নির্ভরতার ভিত্তিতে নয়, বরং সহযোগিতা, জোট ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। বাণিজ্য, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং উন্মুক্ত নাগরিক পরিসর নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যেতে পারে। একটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য আইনের শাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকর্ষণেও সহায়ক।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সবুজ রূপান্তরের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাইকেল মিলার বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক ভূমিকা পালন করছে, তা প্রশংসনীয়। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সংকটটির স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুঙ বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেদেস বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংহতির জন্য সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে অর্থবহ মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; এটি এমন একটি পরিসর যেখানে চিন্তাকে প্রশ্ন করা হয়, দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত হয় এবং তরুণরা আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বকে বোঝার সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন ও মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো শুধু কূটনীতির বিষয় নয়, এগুলো তরুণদের জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই শিক্ষার্থী ও কূটনীতিকদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, সাধারণত কূটনৈতিক যোগাযোগ সমাজের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ উদ্যোগের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও বন্ধ দরজার বৈঠকের বাইরে কূটনীতিকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে আসাই এ সিরিজের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফইএস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সাধন কুমার দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।