ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীর নদীগুলো নাব্য হারিয়ে সংকটে

আরিফুল ইসলাম আরিফ, নীলফামারী প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • / 16

নীলফামারীতে অধিকাংশ নদী নাব্য হারিয়ে ভরাট হয়ে পড়েছে, ফলে অনেক স্থানে পানি এতটাই কমে গেছে যে হাঁটুজলেই নদী পার হওয়া সম্ভব হচ্ছে। নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হয়ে এখন অনেক জায়গায় তা ফসলি জমির মতো ব্যবহৃত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ৩০টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা, বুড়িতিস্তা, চাড়ালকাটা, যমুনেশ্বরীসহ বেশ কয়েকটি নদী গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেগুলোর অবস্থাও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীর তলদেশে ইরি-বোরো, ভুট্টা, কুমড়া ও তরমুজসহ নানা ফসল চাষ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উজান থেকে আসা পলি-বালি, নদী দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত খননের অভাবে নদীগুলো দ্রুত ভরাট হচ্ছে। অনেক জায়গায় নদী বাইরে থেকে পানিপূর্ণ মনে হলেও বাস্তবে তা হাঁটুজল পর্যন্ত নেমে গেছে।

রিভারাইন পিপল বাংলাদেশের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, নদীর তীরে অবৈধ ঘের ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আশপাশে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, নীলফামারীতে একসময় ৩৭টি নদী থাকলেও অব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে কয়েকটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান জানান, বিভিন্ন নদীতে পলি জমে চর পড়ে গেছে এবং ধারণক্ষমতা কমে এসেছে। প্রায় ছয় বছর আগে খনন করা হলেও এখন আবার পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সময়মতো খনন না হলে ভবিষ্যতে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

নদীর এই সংকটের প্রভাব কৃষিতেও পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধান ও ভুট্টা চাষে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। স্থানীয় এক ভুট্টা চাষি জানান, পানি জমে থাকায় ফসল সংগ্রহে দেরি হয়েছে এবং বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদীগুলো রক্ষা করতে হলে দখল ও দূষণ বন্ধের পাশাপাশি নিয়মিত খনন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নীলফামারীর নদীগুলো নাব্য হারিয়ে সংকটে

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নীলফামারীতে অধিকাংশ নদী নাব্য হারিয়ে ভরাট হয়ে পড়েছে, ফলে অনেক স্থানে পানি এতটাই কমে গেছে যে হাঁটুজলেই নদী পার হওয়া সম্ভব হচ্ছে। নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হয়ে এখন অনেক জায়গায় তা ফসলি জমির মতো ব্যবহৃত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ৩০টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা, বুড়িতিস্তা, চাড়ালকাটা, যমুনেশ্বরীসহ বেশ কয়েকটি নদী গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেগুলোর অবস্থাও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীর তলদেশে ইরি-বোরো, ভুট্টা, কুমড়া ও তরমুজসহ নানা ফসল চাষ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উজান থেকে আসা পলি-বালি, নদী দখল, দূষণ এবং অপরিকল্পিত খননের অভাবে নদীগুলো দ্রুত ভরাট হচ্ছে। অনেক জায়গায় নদী বাইরে থেকে পানিপূর্ণ মনে হলেও বাস্তবে তা হাঁটুজল পর্যন্ত নেমে গেছে।

রিভারাইন পিপল বাংলাদেশের পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, নদীর তীরে অবৈধ ঘের ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আশপাশে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, নীলফামারীতে একসময় ৩৭টি নদী থাকলেও অব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে কয়েকটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান জানান, বিভিন্ন নদীতে পলি জমে চর পড়ে গেছে এবং ধারণক্ষমতা কমে এসেছে। প্রায় ছয় বছর আগে খনন করা হলেও এখন আবার পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সময়মতো খনন না হলে ভবিষ্যতে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

নদীর এই সংকটের প্রভাব কৃষিতেও পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বোরো ধান ও ভুট্টা চাষে ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। স্থানীয় এক ভুট্টা চাষি জানান, পানি জমে থাকায় ফসল সংগ্রহে দেরি হয়েছে এবং বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদীগুলো রক্ষা করতে হলে দখল ও দূষণ বন্ধের পাশাপাশি নিয়মিত খনন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।