জঙ্গিবিমান ও তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততায় নজর ভারতের
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
- / 14
বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ঘোষণার পর বিষয়টি ঘিরে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলছে, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর বাইরে কোনো অগ্রগতি হলে তা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগিতা নির্ধারিত রোডম্যাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যা সময় সময় পর্যালোচনা করা হয়। তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা নিয়েও ভারতের অবস্থান আগে থেকেই ঢাকা পক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চীনের পক্ষ থেকে তিস্তা নদীর ‘ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (টিসিআরএমপি) নিয়ে সহযোগিতার আশ্বাসের পর এই প্রতিক্রিয়া আসে। বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক ও কৌশলগত মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ভারতীয় পক্ষের মতে, তিস্তা প্রকল্প ঘিরে সাম্প্রতিক যেকোনো অগ্রগতি এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে বিষয়টিকে সরাসরি সংঘাতমূলক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন না করলেও পর্যবেক্ষণের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা নদী শুধু পানি ব্যবস্থাপনার ইস্যু নয়; এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগ করিডোর ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল। ফলে এ অঞ্চলে তৃতীয় কোনো শক্তির সম্পৃক্ততা দিল্লির দৃষ্টিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির পরও তিস্তা বণ্টন ইস্যু দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ২০১১ সালে একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর থেকে ঢাকা বিকল্প সহযোগিতার দিকে ঝুঁকেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মূল্যায়ন।
এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে চীনের প্রস্তাব ও প্রযুক্তিগত সম্পৃক্ততা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে দীর্ঘদিনের পানি-বণ্টন ইস্যুটি এখন আরও বড় ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চলে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
































